জাতীয় ২২ আগস্ট, ২০১৯ ০৯:৫০

১৫ ও ২১ আগস্টের ঘটনা 'নিছক দুর্ঘটনা': শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক

ডেস্ক রিপোর্ট ।। 

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস বিরোধী শান্তি সমাবেশে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তৃতার শেষ পর্যায়ে তাকে হত্যার উদ্দেশে ঐ সমাবেশে নারকীয় গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এই হামলায় শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ স্থানীয় কয়েকজন নেতা সে দিন অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। এছাড়া আহত হন আরও ৫ শতাধিক দলীয় নেতাকর্মী। এছাড়া ১৫ আগস্টে সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার ঘটনাকে ‘নিছক দুর্ঘটনা’  মনে করেন  মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন।

গতকাল (২১ আগস্ট) শিক্ষা ভবন সংলগ্ন সিরডাপ মিলনায়তনে একটি গোল টেবিল বৈঠকে বিশেষ অতিথি হিসেবে কথা বলার সময় তিনি ১৫ আগস্ট ও  ২১ আগস্টের নির্মম খুন সম্পর্কে এমন মন্তব্য করেন।

গোলটেবিল বৈঠকে মাদরাসা টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. মো. গোলাম আজম আযাদ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের  অতিরিক্ত সচিব মাহমুদুল হকও উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও শিক্ষা অধিদপ্তর ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

আরো পড়ুন: ২১শে আগস্ট হামলার নির্দেশে খালেদা-তারেক

শিক্ষা ক্যাডারের কোনও কর্মকর্তা জাহাঙ্গীরের প্রতিবাদ করেননি। তবে, গোলটেবিলের সঞ্চালক ও বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের প্রতিষ্ঠাতা রোকেয়া কবীর ড. জাহাঙ্গীরের মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করেন। গোল টেবিল ছেড়ে চলে যেতে চাইলে রোকেয়া কবির জাহাঙ্গীরকে দাঁড় করিয়ে রেখে ‘তীব্র প্রতিবাদ করেন।’ 

ইউনাইটেড ফর বডি রাইটস বাংলাদেশে এ্যালায়েন্স (ইউবিআর) আয়োজিত দিনব্যাপী গোলটেবিলের শিরোনাম ‘শিক্ষক প্রশিক্ষণ কারিকুলামে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং অধিকার”। জেন্ডার সংবেদনশীল শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। পাঠ্যপুস্তকে যৌন স্বাস্থ্য সম্পর্কে অধ্যায় থাকলেও তা পড়ানো হয় না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তারা। 

আরো পড়ুন: সেদিন যেভাবে বাঁচানো হয় নেত্রীকে

এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জাহাঙ্গীর বলেন, ‘ওটা স্লিপ অব টাং। আমি আসলে ১৫ ও ২১ আগস্টে নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করতে চেয়েছিলাম।’ 

পরিচালক ড. জাহাঙ্গীরের মূল পদ বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারভুক্ত সরকারি কলেজের শিক্ষক। ২০১০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে তিনি যথাক্রমে এই অধিদপ্তরের উপপরিচালক ও পরিচালক পদে আছেন। তার নিজ জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

এদিকে, তার এমন মন্তব্যের প্রতিবাদ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিটিএ সভাপতি অধ্যক্ষ মো. বজলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. কাওছার আলী শেখ।