ডেস্ক রিপোর্ট
বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক পীর হাবিবুর রহমানের জন্মদিন আজ। জন্মদিনে তিনি তাঁর ফেসবুক আইডিতে এক আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন। আমাদের কাগজের পাঠকদের জন্য পোস্টটি হুবুহু তুলে ধরা হলো-
‘জন্মদিন মানে মৃত্যুর দিকে এক কদম
আমার ছেলেবেলা থেকে রিপোর্টিং জীবনের কোন ছবি সংগ্রহে নেই।অগোছালো বেহিসেবি জীবন আমার।বাবা-মায়ের ছবিটা বাঁধাই করে রাখা দেয়াল থেকে মোবাইলে তোলা।তাও তখন স্ট্রোকে মায়ের একপাশ বাঁকা।৮ভাইবোনের ৪জনই অকালে চলে গেছেন।তবু বাড়িটা মানুষে আড্ডায় প্রানবন্ত।
১৯৬৩সালের ১২নভেম্বর বেলা ১২টায় জন্মেছিলাম।যত পরিনত হই মনে পড়ে ৮ভাইবোন জন্ম দেয়া মায়ের কত কষ্ট গেছে!বর্ননার নয়।তাও বাবা-মা পরিবারকে জ্বালাতন কম করিনি।পরিবার আমার জীবনের বড় পাঠ।বাবা-মা আমার দেখা পরম আল্লাহভীরু পরহেজগার ধর্মিক সহজ সরল সৎ ভালোমানুষ।অতিথিপরায়ন।
বাবা-মা-ই আমার এখনো দোয়া লাভের শক্তিশালী জায়গা।পেশাগত সংগ্রামের জীবনে আমি তাদের জন্য কিছু করতে পারিনি।তবে তাদের সন্তান হিসেবে মাথা নত করিনি।আমার আবেগ সরলতা মানুষের প্রতি গভীর বিশ্বাস ভালোবাসা আছে।আমার বন্ধুবৎসল প্রানবন্ত আড্ডাবাজির জীবন গুটিয়ে গেছে।কিন্তু আমার সাহস শেষ হতে দেইনি।একদিকে মানুষের ভালোবাসা অফুরন্ত যেমন জুটেছে তেমনি বিশ্বাসঘাতকতা প্রতারনাও কম ভোগ করিনি।বাড়ি আক্রমন থেকে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার বিকৃত শিকার কম হইনি।গায়ে মাখিনা।কুকুরের কামড় পায়ের হাটুর নীচে,ঈর্ষা পদতলে ফেলে হাটি।আমার লেখা ও বলার শক্তি নিয়ন্ত্রন করা গেলেও স্তব্ধ করা যাবেনা।আমি পৃথিবীতে একবারই এসেছি।মাথাটা নত করতে নয়,দাস হতে নয়। আমার নীতিগত অবস্হান পরিবর্তনও নয়।মানুষের জন্য বলবো,লিখবো।কে সামনে হিসেব করে নয়।আমার মতের সাথে একমত না হলে হিংস্র হবেন কিনা,আপনার বিষয়,আমার নয়।আমার মর্যাদা আমার সম্পদ,যেমন আমার দুটি সন্তান।জল জোছনায় ভিজে বেড়ে ওঠা আমি প্রকৃতির অপ্রতিরোধ্য সন্তান।স্বজনের নির্মল আবেগ ভালোবাসা আমি মাথায় তুলে রাখি,বিপদে ছুটে যাই।এ চরিত্র বদলাবার নয়।‘


















