নিজস্ব প্রতিবেদক: গত কয়েকদিনের ব্যবধানে বিদ্যুতের লোড শেডিং কোথাও কোথাও প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। দিনের পাশাপাশি গরমের মধ্যে রাতও কাটাতে হচ্ছে বিদ্যুৎহীন অবস্থায়। ফলে গরমের মধ্য হাঁপিয়ে উঠতে হচ্ছে মানুষকে। বিদ্যুতের অভাবে রাজধানীতে পানি সঙ্কটেও ভুগতে হচ্ছে অনেককে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশে ১২ হাজার ১৮৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। আর রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৩ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট। অর্থাৎ প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াটের মতো ঘাটতি রয়ে যাচ্ছে।
কর্মকর্তারা লোড শেডিং বাড়ার জন্য জ্বালানি সঙ্কটের পুরনো কারণগুলোর সঙ্গে সাম্প্রতিক জাতীয় গ্রিড বিপর্যয়কেও কারণ দেখাচ্ছেন।
একজন কর্মকর্তা বলেন, গ্রিড বিপর্যয়ের পর থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর প্রকৌশলী, টেকনিশিয়ানরা সাবধানতার ‘চরম নীতি’ অনুসরণ করছেন। সেজন্য খুবই সতর্কতার সঙ্গে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালানো হচ্ছে। সে কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে।
উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে যেখানে ১৮০-১৯০ মেগাওয়াট উৎপাদন হত, গ্রিড বিপর্যয়ের পর সেখানে ১২০-১৫০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে না। গত ৪ অক্টোবর বিদ্যুতের জাতীয় সঞ্চালন লাইনে সমস্যার পর অন্তত ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন ছিল রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিশাল এলাকা।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, দিনের পাশাপাশি এখন মধ্যরাতেও কয়েক দফায় লোডশেডিং হচ্ছে। মিরপুরে কিছুদিন আগেও দৈনিক গড়ে ৩-৪ বার লোডশেডিং হলেও এখন হচ্ছে ৬-৭ বার এবং বিদ্যুৎ আসছে আগের তুলনায় বেশি সময় পরে। মিরপুর ১২ নম্বরের বাসিন্দা একরামুল কবির বলেন, শনিবার রাত ১২টার পর থেকে বিকাল পর্যন্ত ৪ বার লোড শেডিং হয়েছে। গতকাল রাত ১ টা থেকে ২টা, পৌনে ৭টা থেকে পৌনে ৮টা, সকাল পৌনে ১২টা থেকে পৌনে ১টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছিল না। দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত আরও দুইবার বিদ্যুৎ গেছে। মাঝরাতে যদি দুইবার বিদ্যুৎ চলে যায়, ঘুমাব কীভাবে? আগে তো রাতের দুর্ভোগটা ছিল না, এখন সেটা শুরু হল।”
কবির বলেন, “আমার তিন বছরের মেয়ে আর সাড়ে ছয় মাসের ছেলেটা কারেন্ট চলে যাওয়ায় অস্থির হয়ে পড়েছে। রাতে বাচ্চা দুইটা একদম ঘুমাতে পারেনি। দিনের বেলায়ও তো বিদ্যুৎ যাচ্ছে।” মোহাম্মদপুর, কল্যাণপুর, শ্যামলী, আজিমপুর, মগবাজার, মালিবাগ, রামপুরা, বাসাবো, গোড়ান এলাকায় গতকাল রাত ১২টার পর থেকে সন্ধ্য পর্যন্ত ৫-৬ বার বিদ্যুৎ যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। জাতীয় গ্রিড বিপর্যয়ের আগে দক্ষিণ গোড়ান এলাকায় ২-৩ বার লোড শেডিং হলেও শনিবার থেকে ৬-৭ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং এক থেকে দেড় ঘণ্টা পরে আসছে।
ঢাকার রামপুরায় গত কয়েকদিন ধরে তিন ঘণ্টা পর পর লোড শেডিং হচ্ছে। রামপুরার বাসিন্দা তরিকুল ইসলাম বলেন, “তার মানে দৈনিক ৮ বার লোড শেডিং। এটা ভাবা যায়! বিদ্যুৎ না থাকলে গরমে একে তো নাভিঃশ্বাস অবস্থা, তার উপরে পানির সঙ্কটও তৈরি হয়েছে। চলাটা কঠিন হয়ে পড়েছে।”
আজিমপুরের শেখ সাহেব এলাকার বাসিন্দা শাহনাজ পারভীন লোড শেডিংয়ে গরমের দুর্ভোগের পাশাপাশি ফ্রিজ নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝামেলায় পড়েছেন। “এই এলাকা তো এমনিতেই ঘিঞ্জি। আলো-বাতাস ঢোকে না একেবারে। গরমে তো কষ্ট হচ্ছেই, তার উপরে বিদ্যুতের আসা-যাওয়ার কারণে ফ্রিজটাও নষ্ট হয়ে গেল। দুই বছরও ভালোভাবে চালাতে পারলাম না। লোড শেডিংয়ে ক্ষতির কথা বলে বোঝানো যাবে না। বাচ্চারা পড়তে বসলে ইলেক্ট্রিসিটি চলে গেলে, পরে আর পড়ায় মনোযোগ দেয় না। খুব সমস্যা হচ্ছে।”
আগারগাঁওয়ের বাসিন্দা মমিনা ইসলাম বলেন, “বেশ গরমের মধ্যেও দিনে চার-পাঁচবার বিদ্যুৎ চলে যায়, এজন্য মাঝে মাঝে বাসায় পানিরও সঙ্কট দেখা দিচ্ছে। একদিকে গরম, একই সঙ্গে মশার উপদ্রব, তার সাথে দেখা দিয়েছে পানির সঙ্কট। এইসব নিয়ে আমরা দিন পার করছি।”


















