আমাদের কাগজ ডেস্ক: আগামী ২০২৩ সালের ডিসেম্বর কিংবা ২০২৪ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। তবে এ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণের পাশাপাশি একটি প্রধান বিষয় দাড়ায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির । এরই মধ্যে শেষ হতে যাচ্ছে পুলিশপ্রধানের (আইজিপি) মেয়াদ। নির্বাচনকালীন আইজিপি কে থাকবেন এ নিয়ে রাজনীতির মাঠে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, বর্তমান আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনের চাকরির মেয়াদ রয়েছে আগামী ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত। সে ক্ষেত্রে তাকে আগামী নির্বাচনের আগেই তাকে বিদায় নিতে হচ্ছে। সেক্ষেত্রে নির্বাচনের আগে অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে পুলিশের এ সর্বোচ্চ পদ।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ ও পুলিশ সদরদপ্তরের খোজ নিয়ে জানা যায়, আরও অন্তত চার মাস দায়িত্বে থাকছেন বর্তমান আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন। ফলে এখনই পরবর্তী আইজিপি কে হচ্ছেন তা নিয়ে দাপ্তরিক কিছু নেই। সাধারণত অতিরিক্ত আইজিপিদের মধ্য থেকে একজনকে আইজিপি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। অবশ্য বর্তমান আইজিপিকে মেয়াদ বাড়িয়ে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বিষয়েও রয়েছে গুঞ্জন। তবে এখন পর্যন্ত দেশে এই পদে চুক্তিভিত্তিক কোনো নিয়োগ হয়নি।
তবে আলোচনায় রয়েছেন বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের দুই ব্যাচের তিন কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে পরবর্তী আইজিপি হওয়ার দৌড়ে আলোচনায় রয়েছেন পুলিশ ক্যাডারের ১২ ব্যাচের কর্মকর্তা এস এম রুহুল আমিন, মো. কামরুল আহসান এবং ১৫ ব্যাচের কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম। অতিরিক্ত আইজিপি রুহুল আমিন তার ব্যাচে প্রথম স্থান অধিকারী।
সূত্রগুলো বলছে, রেওয়াজ অনুযায়ী সিনিয়র হিসেবে ১২ ব্যাচের কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে পরবর্তী আইজিপি নিয়োগ দেওয়ার কথা। অপেক্ষাকৃত এক ব্যাচ জুনিয়র এসবি চিফ মনিরুল ইসলাম পরবর্তী আইজিপি হতে পারেন বলে জোর আলোচনা রয়েছে। পুলিশ বাহিনীতে ক্লিন ইমেজ, নেতৃত্ব গুণসম্পন্ন আর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পারদর্শী হিসেবে তাকে সবাই চেনেন। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এ কর্মকর্তা নানা সময়ে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়েছেন। জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে দেশের বাইরেও উগ্রবাদ দমনে যুক্ত সংস্থাগুলোর কাছে তার পরিচিতি রয়েছে।
গোপালগঞ্জ জেলায় জন্ম নেওয়া মনিরুল ইসলাম বিভিন্ন জেলা, মেট্রোপলিটন পুলিশে দায়িত্ব পালন ছাড়াও জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমনে গঠিত ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রথম চিফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পুলিশের আরেক চৌকস কর্মকর্তা এটিইউর অতিরিক্ত আইজিপি রুহুল আমিনের বাড়িও গোপালগঞ্জে। এর আগে তিনি পুলিশ সদরদপ্তরে বিভিন্ন বিভাগে অতিরিক্ত আইজিপির দায়িত্ব পালন ছাড়াও বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চট্টগ্রাম রেঞ্জ, রেল পুলিশসহ চাকরিজীবনে বিভিন্ন মেট্রোপলিটন ও জেলার এসপি হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
অতিরিক্ত আইজিপি কামরুল আহসানের জন্ম চাঁদপুরের মতলবে। পুলিশের এ কর্মকর্তা এটিইউর চিফ, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি, রেলওয়ে পুলিশের ডিআইজি,সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ছাড়াও বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালন করেন।
এ বিষয়ে সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক জানান, নির্বাচনকালীন আইজিপি যিনি থাকবেন তাকে অবশ্যই নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মেনে ও আইন মেনে কাজ করতে হয়। পাশাপাশি তার বাহিনীতেও গ্রহণযোগ্যতা ও লিডারশিপ থাকতে হবে। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার যোগ্যতা এবং মাঠপর্যায়ে দায়িত্বরত ফোর্সের কাছ থেকে সে কাজ আদায় করে নেওয়ার মতো দক্ষতা থাকতে হবে। বাহিনীর সদস্যরা যেন আস্থায় নিতে পারেন, এমন চৌকস এবং দক্ষ কর্মকর্তা না হলে নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সুষ্ঠু নির্বাচনে ভূমিকা রাখা কষ্টকর। সূত্র: কালবেলা
আমাদের কাগজ/ইদি




















