জাতীয় ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১১:১৩

বেড়েই চলেছে প্রবাসী মৃত্যুর হার; তবুও হচ্ছেনা সরকারি অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক।। 

বেড়েই চলেছে প্রবাসে বাংলাদেশি শ্রমিক মৃত্যুর হার। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে সরকারি উদ্যোগে নেই কোনো অনুসন্ধান। বিভিন্ন দূতাবাস ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়েরে তথ্য বলছে, শুধুমাত্র ২০১৯ সালের প্রথম ৮ মাসেই আড়াই হাজারের বেশি প্রবাসী দেশে ফিরেছেন লাশ হয়ে। যার মধ্যে মাত্র ৪ শতাংশের ক্ষেত্রে হয়েছে স্বাভাবিক মৃত্যু। তবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দাবী বিষয়টি নিয়ে সরকার চিন্তাভাবনা করছে আসবে দ্রুতই সিদ্ধান্ত। 

একাধিক সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশিদের মৃত্যুর হার হচ্ছে সৌদি আরবে। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে মালয়েশিয়া। এর পরে রয়েছে যথাক্রমে আরব আমিরাত, ওমান ও কুয়েতের অবস্থান।

প্রবাসী শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করে এমন বেশ কয়েকটি সংগঠনের সাথে এবিষয়ে কথা হলে তারা জানান, ২০০৫ সাল থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত মোট ৩৯ হাজার ৯৮ জন প্রবাসীর মরদেহ দেশে ফিরেছে।

অকালমৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে জানা গেছে, মূলত দিনে ১২-১৮ ঘণ্টা পরিশ্রম, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস, দীর্ঘদিন স্বজনদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা এবং ধার করে বিদেশ যাওয়ায় টাকা উপার্জনে মানসিক চাপ তাদের মৃত্যুর জন্য অনেকাংশেই দায়ী।

প্রবাসী শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করে এমন বেশ কয়েকটি সংগঠন দাবী  করছেন, যে কারণগুলোতে দিন দিন প্রবাসের বাংলাদেশিদের মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে তা অনুসন্ধান করে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া গেলেই এর সংখ্যা অনেক অংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হলেও বিষয়টি নিয়ে সরকারি উদ্যোগে নেই কোনো অনুসন্ধান। 

ওয়েজ আর্নাস কল্যাণ বোর্ডের তথ্য মতে, এ বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ২ হাজার ৬ শর বেশি মরদেহ ফিরেছে। তাদের ৬০ ভাগের বেশি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তবে প্রবাসীদের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানের সুনির্দিষ্ট কোনো উদ্যোগ নেই সরকারের।

অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় কমানো কিংবা কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে এজেন্সিগুলোর উদাসীনতা কিংবা সরকারি নজরদারি না থাকাও প্রবাসে মৃত্যুর অন্যতম কারণ বলে মনে করেন সরকারি ও বেসরকারি অভিবাসন খাত সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, জনশক্তি রপ্তানির হার কমেছে। ২০১৭ সালে ১০ লাখ জনশক্তি রপ্তানির রেকর্ড হলেও ২০১৮ সালে গেছেন ৭ লাখের বেশি কর্মী, আর চলতি বছরের ৮ মাসে গিয়েছেন মাত্র ৩ লাখ ৮৪ হাজার।

প্রতিবেদক: ইসতিয়াক ইসতি