নিজস্ব প্রতিবেদক: আসছে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) প্রকল্প পাসের জন্য আজ রবিবার (১৩ নভেম্বর) আবারও পরিকল্পনা কমিশনে পাঠাবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
এর আগে, গত অক্টোবরে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) প্রস্তাবিত প্রকল্পটি নির্বাচন কমিশনে ফেরত পাঠিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। ৮ হাজার ৭১১ কোটি টাকার এ প্রকল্পটি নেওয়ার আগে কোনো সমীক্ষা যাচাই করা হয়নি। তবে সমীক্ষা যাচাই করা না হলেও পরিকল্পনা কমিশনের আপত্তিতে টেকনিক্যাল কমিটির সইযুক্ত সুপারিশ ডিপিপির সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন সংসদ নির্বাচনে ১৫০টি আসনে যন্ত্রে ভোটগ্রহণের জন্য দুই লাখ ইভিএম কিনতে চায় প্রকল্পটি থেকে, যেখানে ইভিএম প্রতি দাম ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া ৫৩৪টি গাড়ি, ১০টি গুদাম তৈরি, এক হাজারের মতো লোকবল ইত্যাদি খাতে ওই ৮ হাজার ৭১১ কোটি ৪৪ লাখ ধরেছে ইসি।
জানা যায়, পরিকল্পনা কমিশন কিছু ক্ষেত্রে ব্যয় কমানোসহ ফিজিবিলিটি স্ট্যাডির কথা বলেছে পর্যবেক্ষণে। তবে ইসি বলছে, যেহেতু তারা আগে থেকেই ইভিএম ব্যবহার করছে, তাই একই যন্ত্রের ওপর ফিজিবিলিটি স্ট্যাডির প্রয়োজন নেই। এক্ষেত্রে টেকনিক্যাল কমিটির সুপারিশ নিয়েই প্রস্তাবটি ফের পাঠানো হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১০ নভেম্বর) নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে টেকনিক্যাল কমিটির সদস্যরা এসে সুপারিশসূচক স্বাক্ষরও করে গেছেন প্রকল্প প্রস্তাবে।
এ বিষয়ে ইভিএম প্রকল্প পরিচালক কর্নেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান জানান, পরিকল্পনা কমিশন বেতন-ভাতা, পরিবহন ব্যয়, মেইটেইনেন্স সার্ভিস কতখানি যথার্থ সেগুলো দেখতে বলেছে। প্রকল্প ব্যয় সেটা কিছু কমতে পারে। খুব একটা বেশি না।
তিনি বলেন, ফিজিবিলিটি স্ট্যাডিকে তো আর রিপ্লেস করা যায় না। যেহেতু প্রকল্পের সামনে সময় কম আছে। তাই বর্তমান ইভিএমকেই আমরা রেপ্লিকেট করছি। সে জন্য টেকনিক্যাল কমিটির মতামত জরুরি।
তিনি আরও বলেন, প্ল্যানিং কমিশন আমাদের কিছু অবজারবেশনের জায়গা দিয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম ছিল টেকনিক্যাল কমিটির রিপোর্টটা সাপোর্টেট কি-না। আমরা যে টেকনিক্যাল স্পেসিফেকশন দিয়েছি সেটা। সেই কাজটা আজকে করলাম। এখন গ্রিনবুকে এন্ট্রি হয়েছে। অর্থাৎ প্রকল্পটি এডিবিভুক্ত হয়ে গেছে। এখন অর্থমন্ত্রণালয়ে যাবে। তারা আবার যাচাই-বাছাই করে দেখবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, টেকনিক্যাল কমিটি মোটাদাগে যে সুপারিশ দিয়েছে সেগুলো হল আগামী নির্বাচন করতে গেলে বেশকিছু ইভিএম লাগবে। বর্তমানে যে ইভিএম আছে তা দিয়ে নির্বাচন কমিশন যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে, যে দেড়শ আসনের ক্ষেত্রে আমাদের আরও ইভিএম কিনতে হবে। রবিবার টেকনিক্যাল কমিটির সকলের স্বাক্ষরযুক্ত পর্যবেক্ষণ পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
এরইমধ্যে নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেছেন, আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে নতুন ইভিএম কেনা না গেলে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫০ আসনে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা সম্ভব হবে না।
আমাদের কাহজ/ ইআ

















