অভিযানে নেমেছে র্যাব
জঙ্গি ছিনতাই : হারুন বললেন 'যে কোনও সময় গ্রেফতার'
আমাদের কাগজ ডেস্কঃ ‘আদালত পাড়া থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া দুই মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জঙ্গিসহ তাদের সহযোগীদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। যেকোনও সময় গ্রেফতার করা হবে। সোমবার (২১ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টায় রাজধানীর মিন্টো রোডের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এভাবেই বললেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি প্রধান) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ । অন্যদিকে, দুই জঙ্গি ধরতে অভিযানে নেমেছে র্যাবের সব ইউনিট। দুপুরে এ তথ্য জানান র্যাবের লিগ্যাল আ্যন্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
অভিযান নিয়ে র্যাবের লিগ্যাল আ্যন্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, গতকাল রোববার আদালত প্রাঙ্গণ থেকে দুইজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শীর্ষ জঙ্গি পালিয়ে গেছেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব আদালত প্রাঙ্গণ, অন্যান্য জায়গা, সিসিটিভি ফুটেজ এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একই ভাবে পালিয়ে যাওয়া দুই জঙ্গির আগের অপরাধের ধরন, তাদের আত্মীয়-স্বজন ও বিভিন্ন সময় চলাচলসহ সবকিছু র্যাব পর্যালোচনা করছে। পলাতক জঙ্গিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে র্যাবের সব ইউনিট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা তাদের গ্রেফতারে অভিযান পরিচালনা করছে।
যেকোনও সময় গ্রেফতার প্রসঙ্গে ডিবির হারুন বলেন, ঘটনার পরপরই মহানগর পুলিশের ডিবি, সিটিটিসি ও থানা পুলিশসহ বিভিন্ন ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা শহরের সকল পয়েন্টে চেকপোস্ট বসায় এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করেছি।’
দুই জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনায় ৫ পুলিশ সদস্য বরখাস্ত
ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রধান ফটকের সামনে থেকে পুলিশের চোখে স্প্রে করে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জেএমবির দুই সদস্যকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় পাঁচ পুলিশ সদ্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি প্রধান) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, ওই ঘটনায় দায়িত্ব পালন অবহেলার জন্য পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
বরখাস্ত হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন, সিএমএম আদালতের হাজতখানার কোর্ট ইন্সপেক্টর মতিউর রহমান, হাজতখানার ইনচার্জ (পরিদর্শক) নাহিদুর রহমান ভুইয়া, আসামিদের আদালতে নেওয়ার দায়িত্বরত পুলিশের এটিএসআই মহিউদ্দিন, পুলিশ সদস্য শরিফ হাসান ও আব্দুস সাত্তার।
পলাতক দুই আসামি হলেন মইনুল হাসান শামীম ও আবু সিদ্দিক সোহেল। শামীমের বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতকের মাধবপুর গ্রামে। সোহেলের বাড়ি লালমনিরহাটের আদিতমারীর ভেটোশ্বর গ্রামে।
ছিনিয়ে নেওয়া দুজন নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের (সাবেক আনসারুল্লাহ বাংলা টিম) সদস্য। তারা জাগৃতি প্রকাশনীর প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপন এবং লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। এই জঙ্গি সংগঠনের নেতা মেজর (বরখাস্ত) সৈয়দ জিয়াউল হক। যাঁর পরিকল্পনায় ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত একাধিক লেখক, প্রকাশক, ব্লগার ও সমকামী অধিকারকর্মীকে হত্যা করা হয়।
আমাদের কাগজ/এম টি /টি আর