জাতীয় ২১ ডিসেম্বর, ২০২২ ১০:৪৩

হাতকড়া-ডান্ডাবেড়ি নিয়েই মায়ের জানাজায় অংশগ্রহণ বিএনপি নেতা

ছবি - সংগৃহীত

ছবি - সংগৃহীত

আমাদের কাগজ ডেস্কঃ গাজীপুরের কালিয়াকৈরে হাতকড়া আর ডান্ডাবেড়ি নিয়ে মায়ের জানাজা পড়লেন উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আলী আজম।

মায়ের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে গাজীপুর জেলা কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে নিজ বাড়ি কালিয়াকৈরের পাবুরিয়াচালা এলাকায় জানাজায় উপস্থিত হন তিনি।

মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে মায়ের মৃত্যুসংবাদ পেয়ে জেলা কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে নিজ বাড়ি কালিয়াকৈরের পাবরিয়াচালা এলাকায় জানাজায় অংশ নেন তিনি। এর আগে গত রোববার বিকেলে আজমের মা সাহেরা বেগম (৬৭) বার্ধক্যের কারণে মারা যান।

পরিবারের সদস্যরা জানান, শেষবার মাকে দেখতে ও মায়ের জানাজা নিজে পড়াতে আইনজীবীর মাধ্যমে আজম সোমবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেলে জেলা প্রশাসকের কাছে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেন। ওই দিন দাপ্তরিক কাজ শেষ না হওয়ায় মঙ্গলবার প্রায় তিন ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি মিলে আজমের।

স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে নিজ বাড়ির পাশে মায়ের জানাজাস্থলে উপস্থিত হন আজম। পরে বেলা ১১টায় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। মায়ের দাফন শেষে ফের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। পুরোটা সময় হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি পরা অবস্থায় ছিলেন তিনি। তবে সেখানে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পারভেজ আহমেদসহ উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কাজী সাইয়েদুল আলম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পারভেজ আহমেদসহ উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

আলী আজমের ভাই আতাউর রহমান বলেন, জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করলে ভাইকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। জানাজা পড়ানোর সময় তার হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি খুলে দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ খুলে দেয়নি।

জানাজার সময়ও আলী আজমের হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি খুলে না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন জানাজায় উপস্থিত মুসল্লি ও স্থানীয় লোকজন। এ অবস্থায় আলী আজমের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পারভেজ আহমেদ বলেন, মায়ের মৃত্যুর খবরে আলী আজমকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দুঃখের বিষয় জানাজার সময়ও তার হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি খুলে দেওয়া হয়নি।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

উল্লেখ্য, গত ২৯ নভেম্বর কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে হামালার অভিযোগে বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়। ওই মামলায় ২ ডিসেম্বর আলী আজমকে গ্রেফতার করা হয়। এ মামলায় আলী আজমসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয় আরও ১৫০ জনকে। আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের অফিস সহকারী আবদুল মান্নান শেখ বাদী হয়ে এ মামলা করেন।
 

আমাদের কাগজ/এম টি