জাতীয় ৬ জানুয়ারি, ২০২৩ ০১:৫৮

কে হচ্ছেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি, আলোচনায় যাদের নাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদের মেয়াদ শেষ হয়ে আসায় আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে নতুন রাষ্ট্রপতি চূড়ান্ত করতে হবে। বর্তমান রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ হচ্ছে এপ্রিলে। রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ দুই মেয়াদে এই পদে থাকায় তিনি আর রাষ্ট্রপতি হতে পারছেন না। সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে। ফলে হাতে খুব বেশি সময় নেই রাষ্ট্রপতি প্রার্থী নির্বাচন করার। এর মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করার ব্যাপারে আওয়ামী লীগ সরকারকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।

কে হচ্ছেন বঙ্গভবনের পরবর্তী বাসিন্দা সেটিই এখন সর্বত্র আলোচনায়। রাষ্ট্রের সবচেয়ে পদে রাজনৈতিকভাবে পোড় খাওয়া ও বিশ্বস্ত কাউকে বেছে নিতে চাইবে আওয়ামী লীগ। 

রাজনীতির অন্দরমহলে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তির নাম আলোচিত হচ্ছে। তবে আলাপ-আলোচনা যাই থাকুক না কেন, দিন শেষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

এই মুহূর্তে চার-পাঁচটি নাম বেশি আলোচিত হচ্ছে। তাদের মধ্য থেকে একজনকে শেখ হাসিনা রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় পদটিতে মনোনয়ন দেবেন এমনটাই শোনা যাচ্ছে।

জাতীয় সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় আওয়ামী লীগ যাকে মনোনয়ন দেবে তিনিই হবেন রাষ্ট্রপতি। আওয়ামী লীগ মনে করছে, আবদুল হামিদ যেভাবে বিগত দুটি নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এমন একজনকেই এমন পদে আনতে হবে।

রাষ্ট্রপতি পদে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন মহলে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে জাতীয় সংসদের বর্তমান স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে নিয়ে। এর পেছনে যুক্তিও আছে। প্রথমত এর আগে বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ স্পিকার ছিলেন। সেজন্য স্পিকার থেকে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করতে পারে-এরকম একটি ধারণা অনেকের মধ্যে কাজ করছে। আবার অনেকেই মনে করছেন, ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী সভাপতি শেখ হাসিনার অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং আস্থাভাজন।

আবদুল হামিদ যেমন স্পিকার হিসেবে আস্থাভাজন ও সর্বজন গ্রহণযোগ্য ছিলেন তেমনি শিরিন শারমিনেরও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। এ কারণে তাকে আবদুল হামিদের বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করতে পারেন  শেখ হাসিনা।

এছাড়া শেখ হাসিনা তার চার মেয়াদের শাসনামলে নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নারীকে অধিষ্ঠিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেত্রী, স্পিকার, সংসদ উপনেতা পদগুলোতে নারীরা রয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রপতি পদেও প্রথমবারের মতো কোনো নারীকে দেখা যেতে পারে।

সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতির এই আলোচনায় আরও বেশ কয়েকজনের নাম রাজনীতির অন্দর মহলে আলোচিত হচ্ছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান।

বেগম মতিয়া চৌধুরীকে জাতীয় সংসদের উপনেতা হিসাবে দেখা যেতে পারে চলতি অধিবেশনে। তেমন ইঙ্গিতই পাওয়া যাচ্ছে। 

প্রবীণ রাজনীতিক আমির হোসেন আমুকে শেষ জীবনে শেখ হাসিনা আবারও মূল্যায়ন করবেন এমন কথাও শোনা যাচ্ছে। 
এদিকে মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী মোজাম্মেল হকের নামও রাষ্ট্রপতি পদে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে।  

তাদের মধ্য থেকে একজনকে রাষ্ট্রপতি করা হতে পারে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ (১৯৯১ সালের ২৭ নম্বর আইন)-এর ৫ ধারা অনুসারে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য তফশিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে এই নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি।

আমাদেরকাগজ/এইচএম