জাতীয় ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ০২:০৩

রাষ্ট্রপতি পদ নিয়ে অবান্তর বিতর্ক অনাকাঙ্ক্ষিত: সিইসি

আমাদের কাগজ রিপোর্ট: এক সময় দুদকের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় মো. সাহাবুদ্দিনের রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হতে কোনো আইনি বাধা নেই জানিয়ে সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ব্যক্তির পদ নিয়ে যে বিতর্ক সামনে আনা হচ্ছে, সেটা কাঙ্ক্ষিত নয়।

আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে বুধবার এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনী কর্তা হাবিবুল আউয়ালের মন্তব্য আসে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ব্যক্তির প্রশ্নে যদি ধরনের অবান্তর বিতর্ক সৃষ্টি করা হয়, সেটা হবে অনাকাঙ্ক্ষিত।

এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. সাহাবুদ্দিন, যিনি দুদকের একজন সাবেক কমিশনার। ইতোমধ্যে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করে গেজেটও প্রকাশ করা হয়েছে।

দুদক আইনে বলা আছে, কোনো কমিশনার অবসর নেওয়ার পর প্রজাতন্ত্রের কোনো লাভজনক পদে নিয়োগের যোগ্য হবেন না।

এখন মো. সাহাবুদ্দিনের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর দুদক আইনের ওই সূত্র ধরে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে রাষ্ট্রপতি পদটি লাভজনক কি না।

নিয়ে মঙ্গলবার দৈনিক প্রথম আলো একটি প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছে, যেখানে আইন বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হয়েছে এবং তারা পক্ষে-বিপক্ষে দুই রকম কথাই বলেছেন।

রাষ্ট্রপতি পদ লাভজনক কি না, সে বিষয়ে সংবিধানে স্পষ্ট কিছু বলা নেই। তবে এর আগেও নিয়ে বিতর্ক হয়েছে এবং ১৯৯৬ সালে হাই কোর্ট এক রিট মামলার রায়ে সিদ্ধান্ত দিয়েছিল, রাষ্ট্রপতির পদ লাভজনক নয়

ওই বছর ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সাবেক প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করেছিল। বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে মামলায় বলা হয়েছিল, প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসর নিয়ে রাষ্ট্রের কোনো লাভজনক পদে বসা যায় না।

শুনানি শেষে আদালত রায় দিয়েছিল, রাষ্ট্রপতির পদ লাভজনক নয়; সুতরাং সাহাবুদ্দীন আহমদের রাষ্ট্রপতি হতে বাধা নেই।

সেই প্রসঙ্গ ধরে সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল বুধবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, সংবিধান, আইন, বিধি বিধান আদালতের রায় পর্যালোচনা করলে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হতে মো. সাহাবুদ্দিনের কোনো ধরনের অযোগ্যতা নেই

 এই নিয়ে সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদ এবং ১৯৯৬ সালের সাহাবুদ্দীন আহমদ বনাম আবু বকর সিদ্দিক মামলার রায়টি পড়ে শোনান সিইসি।

এর আগে মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীরও বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন।

তিনি বলেন ওই রায়ে স্পষ্ট বলা রয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদিটি অফিস অব প্রফিট নয়। এটা কন্সটিটিউশনাল পদ। অতএব বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমেদনের রাষ্ট্রপতি পদ গ্রহণ ছিল সম্পূর্ণভাবে বৈধ। ওই মামলা সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।

যেহেতু উচ্চ আদালতের রায় আইন হিসেবে বিবেচিত হয়, সেহেতু বর্তমানে যিনি রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন, যদিও তিনি দুদকের কমিশনার ছিলেন, উনি রাষ্ট্রপতি পদ গ্রহণের ক্ষেত্রে আইনগত কোনো বাধা নেই।

তিনি দাবি করেন, লাভজনক পদ বলতে কী বোঝায়, আইন তা স্পষ্ট করেই বলা হয়েছে, যদিও তালিকা দেওয়া হযনি।

লাভজনক পদের ক্ষেত্রে বলা আছে, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত এবং কোনো প্রতিষ্ঠানে যদি সরকারের ৫০ ভাগের অধিক অর্থ থাকে, তাহলে সেই পদে নিয়োগকে বলা হবে লাভজনক পদ।

এখানে রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রী উনারা কিন্তু প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী না। এগুলো হল সাংবিধানিক পদ। যেহেতু সাংবিধানিক পদ, অতএব লাভজনক পদের ডেফিনেশনে এরা পড়ে না।

 

 

 

আমাদের কাগজ/টিআর