আমাদের কাগজ রিপোর্ট: প্রয়াত রাজনীতিক ও সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের ছেলে তরুণ সংসদ সদস্য তানভীর শাকিল জয় সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে স্পিকারের কাছে আবদারকে কেন্দ্র করে হাস্যরসের ঘটনা ঘটেছে। নিজেকে স্পিকারের নাতি আখ্যা দিয়ে জয় ‘নাতি কোটায়’ সময় বাড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধ করলে ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু হেসে দেন। এসময় সংসদে হাসির রোল পড়ে যায়। অন্য সংসদ সদস্যরাও হেসে ওঠেন।
শনিবার (৮ এপ্রিল) দুপুরের দিকে এই আলোচনায় জাতীয় সংসদের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ১৪৭ বিধিতে উত্থাপিত প্রস্তাবের ওপর ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্বকালে এমন ঘটনা ঘটে।
তানভীর শাকিল জয় বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার! আরেকটু সময় দেবেন। নাতি কোটা... প্লিজ মাননীয় স্পিকার।’ এসময় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে স্পিকার নিজেও হেসে ফেলেন। জবাবে তিনি বলেন, ‘আচ্ছা, আর দুই মিনিট বলুন।’
জাতীয় চার নেতার অন্যতম ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলীর নাতি তানভীর শাকিল জয়। এম মনসুর আলী মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে গঠিত বাংলাদেশ সরকারে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তার ছেলে মোহাম্মদ নাসিম পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতা হন। ছিলেন একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী। মৃত্যুর আগে তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ১৪ দলের সমন্বয়ক ছিলেন।
দাদার পরে পিতা এবং পিতার পরে সিরাজগঞ্জের রাজনীতিতে সক্রিয় হন তানভীর শাকিল জয়ও আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন। তিনি ৯ম ও ১১তম জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
বক্তব্যে জয় বলেন, ‘আমি সেসব সুশীল বাবু এবং তাদের পত্রিকার কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই, যখন ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল— তখন স্বাধীনতার চেতনা কোথায় ছিল? যখন ২১ আগস্টে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিল তখন স্বাধীনতা কোথায় ছিল? যখন বাংলাদেশে সারের জন্য কৃষকদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল, যখন বিদ্যুতের জন্য সাধারণ মানুষকে গুলি করা হয়েছিল তখন স্বাধীনতা কোথায় ছিল? তখনতো আপনাদের বোধোদয় হয় নাই, তখনতো আপনারা স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলেন নাই। এখন আপনারা স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলেন।’
আমাদের কাগজ/টিআর

















