আমাদের কাগজ রিপোর্ট: আসন্ন ঈদুল ফিতর ঘিরে রাজধানীর প্রধান নৌবন্দর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে বাড়ছে বরিশালগামী নৌযাত্রী। স্বপ্নের পদ্মা সেতু চালু হলে সড়কপথে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ শুরু হওয়ার পর থেকেই এই পথে নৌযাত্রীর সংখ্যা হ্রাস পেতে শুরু করে। তবে ঈদকে সামনে রেখে যাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় আশায় বুক বাঁধছেন লঞ্চ সংশ্লিষ্টরা। যাত্রী সংখ্যা বাড়লে বাড়ানো হতে পারে ভাড়াও।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঈদের ছুটিতে আগেভাগেই বাড়ি ফিরতে সদরঘাটে আসছেন দক্ষিণাঞ্চলগামী যাত্রীরা। নিয়মিত চলাচল করা লঞ্চগুলো প্রায় পূর্ণ যাত্রী নিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ে যাত্রী সংকটে প্রতিটি নৌরুটে নিয়মিত দুই থেকে তিনটি করে লঞ্চ স্বল্প যাত্রী নিয়ে চলাচল করতো। ঈদ উপলক্ষে যাত্রীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় লঞ্চগুলো কানায় কানায় ভরে ঘাট ছাড়ছে। খালি নেই দক্ষিণাঞ্চলগামী লঞ্চগুলোর কেবিন। ডেকেও দেখা গেছে যাত্রীর ভিড়।
ঢাকা-বরিশাল রুটের এমভি সুরভী লঞ্চের স্টাফ মেহেদী হাসান বলেন, ‘পদ্মা সেতু হওয়ার পর যাত্রীতো একেবারেই নেই আমাদের। ঈদের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। বৃহস্পতিবার রাত থেকে ভালো যাত্রী হচ্ছে, লঞ্চ প্রায় ভরে যাচ্ছে। এমন হলে ঈদের আগের দুই-তিন দিন ছয় থেকে সাতটা করে লঞ্চ চলবে বরিশালে।'
লঞ্চ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের পর সর্বশেষ কোরবানি ঈদের তিন-চার দিন আগে যাত্রীর চাপ কিছুটা তৈরি হলেও তা আশানুরূপ ছিল না। তবে এবার ঈদের ১০ দিন আগে যাত্রীর চাপ তৈরি হওয়ায় সন্তুষ্ট তারা। এছাড়াও রমজান ও দেশে চলমান দাবদাহের কারণেও আরামদায়ক যাত্রার জন্য যাত্রীরা নৌপথকে বেছে নিবেন বলেও আশা তাদের।
সুন্দরবন লঞ্চের স্টাফ খাইরুল হাসান বলেন, ‘কোরবানির ঈদেতো যাত্রীই হয়নি। এখন যতটুকুই হোক হচ্ছে, আমরা এতেই খুশি। এবার যে গরম, রোজা থেকে মানুষ বাসে যাবে বলে মনে হয় না। লঞ্চে আরামে যাতায়াত করবে মানুষ। এখন দেখা যাক কতটা চাপ তৈরি হয় যাত্রীর।’
ঈদ উপলক্ষে নির্ধারিত সময়ের আগেই শুরু হয়েছে অগ্রিম টিকিট বিক্রিও। ২০ এপ্রিল পর্যন্ত গড়ে প্রায় ৪০ শতাংশ কেবিন বুকিং হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ১৭ এপ্রিল থেকে লঞ্চের অগ্রিম টিকিট বিক্রির কথা থাকলেও রোজার শুরু থেকেই অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। অনেকে এসে অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করছেন। আবার কেউ ফোন করে কেবিন বুকিং দিচ্ছেন।
এমভি পারাবত লঞ্চের সুপারভাইজার সেলিম মিয়া বলেন, ‘লঞ্চের ডেকে যাত্রী কিছুটা কম থাকলেও কেবিন বিক্রি হয়ে যাচ্ছে প্রায় সব। রোজার শুরু থেকেই আমরা কেবিন বিক্রি করছি। মোটামুটি ঈদের আগেরদিন পর্যন্ত কেবিন কম-বেশি সব বিক্রি হয়ে গেছে। ২০ তারিখ পর্যন্ত যতগুলো কেবিন এখনই বিক্রি হয়ে গেছে, তাতে লঞ্চ ছাড়ার আগে সব কেবিন বিক্রি হয়ে যাবে।’
তবে যাত্রী বাড়লেও এখনও পর্যন্ত ভাড়া বাড়ানো হয়নি। সরকার নির্ধারিত ভাড়ার থেকে অনেক কম দামেই বিক্রি করা হচ্ছে ডেক, সোফা ও কেবিন। তবে যাত্রীর চাপ থাকলে ঈদের দুই-তিন দিন আগে ভাড়া বাড়ানো হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে ভাড়া বাড়ানো হলেও তা সরকার নির্ধারিত টাকার থেকে কম থাকবে।
ঢাকা-বরিশাল রুটে বর্তমানে ডেকে ৩০০ টাকা, সিঙ্গেল কেবিনে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, ডাবল কেবিনে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা ভাড়া গুণতে হচ্ছে। যেখানে সরকার নির্ধারিত ভাড়া ডেকে ৪৫৯ টাকা, সিঙ্গেল কেবিনে ১ হাজার ৮৩৬ টাকা, ডাবল কেবিনে ৩ হাজার ৬৭২ টাকা। ভাড়া বাড়লে ডেকে ৩৫০-৪০০ টাকা, সিঙ্গেল কেবিনে ১ হাজার ৫০০ টাকা ও ডাবল কেবিনে সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা হতে পারে।
প্রিন্স আওলাদ স্টাফ মো. আল-আমিন মিয়া বলেন, ‘ডেকে ৩০০ টাকা, সিঙ্গেল কেবিনে ১ হাজার টাকা, ডাবল ২ হাজার টাকা রাখা হচ্ছে। যাত্রী কম তাই সরকার নির্ধারিত ভাড়া থেকে কম ভাড়া রাখা হচ্ছে। তবে কাল বা পরশু থেকে ভাড়া কিছুটা বাড়ানো হতে পারে। ভাড়া বাড়ানোর বিষয়টা মালিক পক্ষের হাতে।'
লঞ্চ মালিক সমিতির মহাসচিব শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘যাত্রী যতটা হওয়া উচিত ততটাতো হচ্ছে না। তারপরও যতটা হচ্ছে আমরা আশা করছি অন্তত গত কোরবানির ঈদের মতো একেবারে ভাটা পড়বে না। যাত্রী বাড়লে সোমবার থেকে প্রতিটি রুটে লঞ্চ সংখ্যা বাড়ানো হবে। চাহিদা থাকলে বিশেষ ট্রিপও চালু করা হতে পারে। আমরা ভাড়া বাড়ানোর কোনও সিদ্ধান্ত নেইনি। সরকার নির্ধারিত ভাড়ার থেকেও কম ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। তবে ভাড়া বাড়ানো হলেও, তা সামান্য পরিমাণে বাড়বে। যেটা বাড়ানো হবে সেটাও সরকার নির্ধারিত টাকার অনেক কম থাকবে।’
ঢাকা নদী বন্দরের নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম পরিচালক কবির হোসেন বলেন, ‘ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে যাবতীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। গত ঈদ মৌসুমে প্রতিদিন গড়ে ৬৮টি লঞ্চ দক্ষিণাঞ্চলের ৪১টি রুটে চলাচল করতো। তবে যাত্রী কমে যাওয়ায় এ বছর ৪৬টি লঞ্চ চলাচলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরপরও চাপ থাকলে স্পেশাল ট্রিপের ব্যবস্থা করা হবে।’
আমাদের কাগজ/টিআর


















