জাতীয় ৬ মে, ২০২৩ ০৭:২৫

একই দিনে ঢাকায় আসছেন আজমত-জাহাঙ্গীর, নেপথ্যে কী?

আমাদের কাগজ রিপোর্ট: গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে দুইবার শোকজ পেয়েছেন নৌকার প্রার্থী অ্যাডভোকেট আজমত উল্লা খান। শোকজের জবাব দিতে আগামীকাল রোববার (৭ মে) নির্বাচন কমিশনের দেওয়া নির্ধারিত সময়ে সশরীরে যাবেন তিনি। অপর দিকে মেয়র পদে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার জন্য একই দিন উচ্চ আদালতে যাচ্ছেন সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম।

মহানগর আওয়ামী লীগের বর্তমান ও সাবেক এই দুই নেতার একই দিন ঢাকায় যাওয়ার বিষয়টি গাজীপুরের নেতাকর্মীদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছে। দুই নেতার দিকেই তাকিয়ে আছেন তাদের কর্মী-সমর্থকেরা।

স্থানীয়রা বলছেন, আওয়ামী লীগ দেশের সবচেয়ে বড় দল। সেই দলের প্রার্থী এমনিতে বাড়তি সুযোগ-সুবিধা পান। তারপরও নির্বাচন কমিশন নৌকার প্রার্থীকে দুইবার শোকজ দিয়েছে। এটা নির্বাচনী মাঠে নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন তারা।

অপরদিকে, জাহাঙ্গীর আলম উচ্চ আদালতে ন্যায়বিচার পেলে নির্বাচনী মাঠে ফিরে আসবেন বলে আশা করছেন তার অনুসারীরা।

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আজমত উল্লাকে সশরীর উপস্থিত থেকে ব্যাখ্যা দিতে বলেছে ইসি। গত বৃহস্পতিবার ইসি সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব ফরহাদ আহাম্মদ খান স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে আজমত উল্লাকে ৭ মে ইসিতে তলব করা হয়।

এ প্রসঙ্গে আজমত উল্লা বলেন, ইসির চিঠি পেয়েছি। সে অনুযায়ী আগামীকাল রোববার বিকেল ৩টায় সশরীরে নির্বাচন কমিশনে উপস্থিত হয়ে আমি ব্যাখ্যা দেব।

নৌকার প্রার্থী বলেন, আমাকে যে কারণে শোকজ করা হয়েছে সেই কর্মীসভাটি মহানগরের বাইরে মির্জাপুর এলাকায় হয়েছে। আমি রাজনীতি করি, জেলার সাধারণ সম্পাদক ছিলাম, মহানগরের সভাপতি আছি। সিটি করপোরেশনের বাইরে রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে যেতে পারব না-এটা মনে হয় আচরণবিধিতে নেই। এক্ষেত্রে আমি বা আমার মন্ত্রী কেউ নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেননি।

এদিকে, দলীয় মনোনয়ন না পেলেও নির্বাচনী লড়াই থেকে সড়ে দাঁড়াননি জাহাঙ্গীর। দলের বহিষ্কারের ঝুঁকি মাথায় নিয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনি। কিন্তু গত রোববার (৩০ এপ্রিল) যাচাই– বাছাইয়ে ঋণখেলাপির দায়ে তার মনোনয়ন বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীর বিভাগীয় কমিশনার কাছে আপিল করেন। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মো. সাবিরুল ইসলামও ঋণখেলাপির কারণে জাহাঙ্গীরের মনোনয়ন বাতিল করে রিটার্নিং কর্মকর্তার দেওয়া আদেশ বহাল রাখেন। এ অবস্থায় মনোনয়ন ফিরে পেতে জাহাঙ্গীর এবার উচ্চ আদালতে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমার সব কাগজপত্র বৈধ থাকার পরেও আপিল খারিজ করা হয়েছে। এজন্য আমি রোববার উচ্চ আদালতে যাব। সেখানে আশা করি ন্যায়বিচার পাব।