জাতীয় ৩১ মে, ২০২৩ ০৬:০৫

পুলিশ ও সাংবাদিকদের মধ্যে যোগাযোগটা বেশি দরকার: আইজিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেছেন, বর্তমানে পুলিশের সোর্স অব ইনফরমেশন হলো সাংবাদিক, আর সাংবাদিকদের পুলিশ। তাই পুলিশ ও সাংবাদিকদের মধ্যে যোগাযোগটা বেশি দরকার। যোগাযোগ বেশি হলে পেশাগত দায়িত্ব পালন সহজ হয়। একটা মামলা হলে যতো কিছুই বলি না কেন সেটা পুলিশকে তদন্ত করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে আমরা বলি সাংবাদিকরা এই নিউজ, ওই নিউজ না করলেও পারতো।

বুধবার (৩১ মে) দুপুর ১২টার দিকে পুলিশ সদর দফতরের হল অব প্রাইডে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) কার্যনির্বাহী কমিটির সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।

আইজিপি বলেন, আমি মনে করি, সাংবাদিকদের কাজে বাধা দেওয়া উচিত না। কারণ তাদেরও তো এক্সসেপশনাল নিউজ প্রকাশ বা দেখাতে হয়। সাংবাদিক ও পুলিশের উদ্দেশ্যই হচ্ছে সমাজের বিভিন্ন অনিয়ম দূর করা। সেজন্য আমাদের পারস্পারিক সহযোগিতা ও যোগাযোগ বেশি দরকার।

পুলিশ মহাপরিদর্শক বলেন, পুলিশের সঙ্গে অপরাধ বিষয়ক রিপোর্টারদের সংগঠন ক্র্যাবের সঙ্গে একটা ভালো সম্পর্ক রয়েছে। পরস্পর আমরা অনেক কাজও করি। নির্বাচনী ডিউটিতে পাশাপাশি কাজ করে থাকি। দায়িত্বের চেয়ে তাই পারস্পারিক প্রত্যাশাটাও আমাদের বেশি।

আইজিপি বলেন, আগে কোনো মামলা তদন্ত করতে হলে সোর্সের উপর নির্ভর করতে হতো। কিন্তু বর্তমানে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, তদন্ত সংক্রান্ত আধুনিক প্রশিক্ষণ, বিভিন্ন আধুনিক সরঞ্জামাদির সংযোজন ও জনবল বৃদ্ধিসহ সব কিছু মিলে তদন্তে আমরা এমন একটা পর্যায়ে পৌঁছেছি যে, পুলিশ এখন ৯৫ শতাংশ আনডিটেক্টেড কেস সলভ করে ফেলছে।

ক্র্যাব নেতৃবৃন্দের কাছে সার্বিক সহযোগিতার প্রত্যাশা রেখে চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, অনেক জায়গায় অনেক গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে দূরত্ব থাকে। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে তা পছন্দ করি না। ঢাকার বাইরে কাজের সময় কখনো আমার প্রেসের সঙ্গে সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়নি। সাংবাদিক বন্ধুদের সার্বিক সহযোগিতা ও আস্থা আমি অর্জন করেছি।

ক্রাইম রিপোর্টারদের জন্য পুলিশের সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে উল্লেখ করে পুলিশ প্রধান বলেন, সাংবাদিকতায় বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে ক্র্যাব কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে। সাংবাদিকদের কারণেই আজকে পুলিশের ভালো দিকগুলো প্রকাশ পাচ্ছে, বাড়ছে পুলিশ প্রীতি। সম্প্রীতির যেন বন্ধন সেটা জনগণের সঙ্গে আরও সুদৃঢ় হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

‘দেশের স্বার্থে, মানুষের স্বার্থে সাংবাদিকরা রিপোর্টিং করে থাকেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ও বাংলার সাংবাদিকরা কলম দিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে গেছেন। আমাদের সেই পূর্বসূরীদের পথ ধরেই বর্তমান সাংবাদিকরা এগিয়ে যাচ্ছেন। আগামী দিনেও উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যেতে হবে,’ যোগ করেন তিনি।

আমাদেরকাগজ/এইচএম