'যোগসাজশে বিমানবন্দরের লকার থেকে ৫৫ কেজি সোনা চুরি '
ছবি - সংগৃহীত
তুষার আহম্মেদ: খববের শিরোনাম এখন বিমানবন্দরের লকার থেকে ৫৫ কেজি সোনা চুরি। এ দিকে চুরি যাওয়া স্বর্ণ নিয়ে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছে ভিন্ন কথা। এক প্রকার নিশ্চিত হয়ে তারা বলেছেন, বিমানবন্দরের লকার থেকে ৫৫ কেজি সোনা চুরি শুল্ক বিভাগের কোন না কোন কর্মকর্তার যোগসাজশ রয়েছে।
গত (রোববার) রাতে ঢাকা শুল্ক বিভাগের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহরাব হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেন। এতে মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।
এ ছাড়া একটি প্রথম সারির পত্রিকার শিরোনামে বলা হয়েছে, দুজন শনাক্ত, সন্দেহে আরো দুই কর্মকর্তা।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিশ্চিত হয়ে বলেছেন, শুল্ক বিভাগের কোন না কোন কর্মকর্তার যোগসাজশে বিমানবন্দরের লকার থেকে ৫৫ কেজি সোনা চুরি হয়েছে। এর মধ্যে দুজন কর্মকর্তাকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। সন্দেহের তালিকায় আরও দুজন কর্মকর্তা রয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সোনা চুরির এই ঘটনা ঢাকা শুল্ক বিভাগের নজরে আসে গত শনিবার। তবে বিষয়টি জানাজানি হয় পরদিন রবিবার। এই ঘটনায় শুল্ক বিভাগ একজন যুগ্ম কমিশনারের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, (শনিবার) সকাল ৯টার দিকে ঢাকা শুল্ক বিভাগের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ও গুদামের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা মাসুদ রানা যুগ্ম কমিশনারকে বিমানবন্দরের ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড’ শাখার কাছে শুল্ক বিভাগের গুদামের মূল্যবান পণ্যসামগ্রী রাখার একটি স্টিলের আলমারির লকার ভাঙা বলে জানান।
মামলায় আরও বলা হয়েছে, গুদামের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এমন সংবাদ পেয়ে ওই গুদাম পরিদর্শনে যান ঢাকা শুল্ক বিভাগের কমিশনার, অতিরিক্ত কমিশনার ও যুগ্ম কমিশনার। তাঁরা গিয়ে গুদামের একটি স্টিলের আলমারির লকার ভাঙা দেখেন। গুদামের পূর্ব পাশে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের বাতাস যে অংশ দিয়ে বের হয়, সেখানকার টিনের কিছু অংশ কাটা দেখতে পান। পরে তাঁরা গুদামের দায়িত্বে থাকা চারজন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ও চারজন সিপাহিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গুদামের দায়িত্ব কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কোনো সন্তোষজনক উত্তর না পেয়ে শুল্ক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গুদাম থেকে কোনো মূল্যবান বস্তু চুরি হয়েছে কি না, সেটা নিশ্চিত হওয়ার জন্য গুদামের দায়িত্ব কর্মকর্তাদের মৌখিক নির্দেশনা দেন।
উল্লেখ্য, বিমানবন্দরের ভেতরের সব জায়গা সিসিটিভি ক্যামেরায় নজরদারিসহ সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হয়। পুরো বিমানবন্দরে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাসহ সরকারি বেশ কয়েকটি সংস্থা কাজ করে। এত নিরাপত্তার মধ্যে গুদাম থেকে সোনা চুরি হওয়ার বিষয়টি বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
আমাদেরকাগজ/এমটি