জাতীয় ২০ অক্টোবর, ২০১৯ ০৯:০৭

পলকের ওপর ক্ষুব্ধ কেন্দ্রীয় নেতারা (ভিডিও)

নিজেস্ব প্রতিবেদক ।। 

নাটোরে জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় শনিবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, দলে অনুপ্রবেশকারীদের জায়গা দেওয়া হবে না। কে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী তা দেখার বিষয় নেই। আজকে সব থেকে বড় প্রয়োজন হলো শেখ হাসিনার বিজয় নিশ্চিত করা। আওয়ামী লীগের দূর্গ নাটোরের সকল নেতা কর্মীদের এক হতে হবে। প্রত্যেকটা সিট যেন আমরা পাই তার ব্যবস্থা করতে হবে। সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। 

অপরদিকে তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক সম্পর্কে তিনি বলেন, সে দুইবার প্রতিমন্ত্রী। তার চাওয়া পাওয়ার থেকে আওয়ামী লীগের জন্য কাজ করাটা জরুরী। কিন্তু সে তা না করে আজ বিরোধী দলের হয়ে কাজ করছে। তিনি আরো বলেন, পলক তুমি আওয়ামী লীগ থেকে অনেক সম্মান পেয়েছো। তোমার কাছে সব থেকে বড় পরিবার হচ্ছে আওয়ামী লীগ পরিবার। নিজের কোন পরিবারের কথা এখানে ভাবার সময় নেই।  

কেন্দ্রীয় নেতাদের তোপের মুখে পড়েছেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। শনিবার (১৯ অক্টোবর) বিকালে শহরের স্টেশন এলাকায় নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় এই ঘটনা ঘটে। 

বর্ধিত সভায় নাটোর দুই আসনের এমপি সফিকুল ইসলাম শিমুল অভিযোগ করে বলেন, জুনায়েদ আহমেদ পলক সিংড়া জামায়াতের আমীরের ছেলে এবং তার আপন ভাগিনাকে সিংড়া ছাত্রলীগের কমিটিতে নেতা বানিয়েছে। জামায়াত-বিএনপির নেতা কর্মীদের নিয়ে তিনি পথ চলছেন। 

সিংড়া উপজেলা চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের আসনের এমপি  উপজেলা নির্বাচনের সময়ে আমার বিরধিতা করে বিএনপি-জামায়াত মনোনীত প্রার্থীকে সমর্থন করেন। তাও জনগনের ভোটে আমি জয় লাভ করি। কিন্তু এখন তিনি প্রভাব খাঠিয়ে আমার উপজেলার কোন উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালণা করতে দিচ্ছেন না। এছাড়াও আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের বিভিন্ন সময়ে হেনস্থা করছেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও নাটোর জজকোর্টের পিপি সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে পলক, কুদ্দুস আর বকুল যে নৌকার বিপক্ষে উপজেলা নির্বাচনে প্রকাশ্যে কাজ করেছে, তা সবাই জানে। এটা চন্দ্র-সূর্যের মতই সত্য। অভিযোগ উত্থাপনের পরও বক্তব্য দিতে দিলে বর্ধিত সভায় মতানৈক্য আর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারতো। তাই তাদেরকে বক্তব্য দিতে দেওয়া হয়নি।

তাছাড়া নাটোর জেলার অনেক আওয়ামী লীগের নেতা কর্মী জানিয়েছেন, দলের মধ্যে দল বিরোধী কেউ থাকতে পারবে না। তারা জেলার বর্ধিত সভায় পলক বিরোধী বিভিন্ন ব্যানার নিয়ে হাজির হয়। 'নৌকার বিরুদ্ধে যারা কাজ করে তাকে মানি না' বলে শ্লোগান দিতে থাকে হাজার হাজার নেতা কর্মী। 

উল্লেখ্য, স্থানীয় নেতারা এমন কাজের প্রতিবাদ করেন এবং এসব নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন। পরে পলক ও বকুলকে বর্ধিত সভায় বক্তব্য রাখতে দেওয়া হয়নি। এ সময় বিষয়গুলো সুষ্ঠু তদন্ত করে ও শেখ হাসিনার নির্দেশ মেনে সংশ্লিষ্ট উপজেলা কাউন্সিল সম্পন্ন করতে জেলা আওয়ামী লীগকে দায়িত্ব দেন উপস্থিত নেতারা।