দেশে মহামারির চেয়েও ভয়ংকর রূপে ছড়িয়ে পড়েছে ধর্ষণ। বাবা, শ্বশুর, দুলাভাই, শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা থেকে শুরু করে মসজিদ-মন্দিরের ইমাম-পুরোহিতও ধর্ষক। মসজিদ-মন্দিরের মধ্যেও ধর্ষণ। অভিজাত হোটেল থেকে বস্তি এলাকা ধর্ষকদের অভয়ারণ্য যেন সবই। একক ধর্ষণের পাশাপাশি সংঘবদ্ধ ধর্ষণ বৃদ্ধি পাচ্ছে ক্রমাগত হারে।
প্রতি চারটি ধর্ষণের একটি হচ্ছে গণধর্ষণ। শিশু থেকে শতবর্ষী বৃদ্ধা নারীও ধর্ষণের শিকার। এমনকি ধর্ষণ থেকে রেহাই পাচ্ছে না বাক্ বা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীরাও। ধর্ষণ শেষে নির্মম নির্যাতন আর হত্যার ঘটনাও ঘটছে অহরহ।
বাংলাদেশে একজন ধর্ষিতাকে ধর্ষণ হয়েছে কি না যাচাই করার নামে নানাভাবে নাজেহাল করা হয়। সামাজিকভাবে তার চরিত্র ও নৈতিক মূল্যবোধের ওপর কালিমালেপন করা হয়। ফলে অনেক ধর্ষিতাই ধর্ষণের অভিযোগ করে না কিংবা করতে দেওয়া হয় না।
সর্বশেষ খাগড়াছড়িতে চাকমা সম্প্রদায়ের এক নারী, সিলেট এমসি কলেজে স্বামীর সাথে বেড়াতে যাওয়া এক নারী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মেয়ে শিক্ষার্থী মানবতা বিবর্জিত অপকর্ম ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।
আমাদের এ প্রিয় মাতৃভূমি ধর্ষণের উপত্যকা হিসেবে পরিচিতি লাভের আগেই এর প্রতিরোধে আইনগত, বিচারিক, প্রশাসনিক সংস্কার ও সামাজিক আন্দোলনসহ সম্ভাব্য সব পথে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। লাখো শহীদ ও কন্যা-জায়া-জননীর সম্ভ্রমের চড়া মূল্যে অর্জিত এ পুণ্যভূমি ধর্ষকের দখলে যেতে পারে না। সাম্প্রতিক এই ধর্ষণগুলোর জন্য দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে, অবিলম্বে শাস্তি প্রদানের দাবীতে আগামীকাল ২৭ সেপ্টেম্বর, রবিবার বেলা ১২টায় শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সম্মুখে ধর্ষণ বিরোধী মানববন্ধন ও সমাবেশের আয়োজন করেছি। আপনাদের সহযোগিতা ও উপস্থিতি একান্তভাবে কাম্য।
প্রয়োজনে
তানভীর হাসান সৈকত
সাবেক সদস্য-ডাকসু।
01684023411


















