রায়হান শোভন
দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা শাখা ছাত্রলীগের কমিটি নেই। এতে অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে প্রাচীনতম সংগঠনটির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। এ ছাড়া কমিটি না থাকায় সংগঠন থেকে বেরিয়ে আসছে না নতুন নেতৃত্ব। দলে অনুপ্রবেশকারীদের সংখ্যাও বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। ফলে আধিপত্য বিস্তার করতে সদর উপজেলায় বিভিন্ন গ্রুপ-উপগ্রুপ সৃষ্টি হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে কমিটি না দেয়ায় উপজেলা ও ইউনিয়নে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বহিরাগতদের স্থানীয় রাজনীতিতে প্রবেশ বাড়ছে। অনেকটা নেতৃত্ব শূণ্য হয়ে পড়েছে। তৎকালীন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শরীফ হাসান অনু ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ জাহান শাহীন স্বাক্ষরিত সদর উপজেলা কমিটির সভাপতি ফজলুল হক বর্তমানে ব্যবসার সাথে জড়িত। তিনি তিন সন্তানের জনক। তার মেয়ে নবম শ্রেণীতে পড়ে।
অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীরের রয়েছে দুই সন্তান। তাঁর বড় মেয়ে ৯ বছর বয়সী। এ বিষয়ে জানতে সভাপতি ফজলুল হকের সাথে বেশ কয়েকবার মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পরপরই মুঠোফোন সংযোগ কেটে দিয়েছেন। ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, উপজেলা ছাত্রলীগের কার্যকাল এক বছর। উপজেলা শাখাকে উপরোক্ত সময়ের মধ্যে নির্বাচিত কর্মকর্তাদের কাছে দায়িত্বভার হস্তান্তরের বিধিবিধান উল্লেখ করা আছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সমন্বয়হীনতার কারণে দীর্ঘদিন সদর উপজেলায় কমিটি দেওয়া হচ্ছে না। তাছাড়া স্থানীয় নেতৃবৃন্দ তাদের রাজত্ব দীর্ঘদিন টিকিয়ে রাখার স্বার্থে এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ছাত্র রাজনীতি করে সাবেক বেশির ভাগ নেতাই অনুপ্রবেশের ভিড়ে কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন। কারণ দীর্ঘ দিন কমিটি না থাকায় কিছু সুবিধাবাদী নেতার ছত্রচ্ছায়ায় তারা দলের নাম ব্যবহার করে নানা অপকর্ম করছে। যার ফলশ্রুতিতে অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে উপজেলা ছাত্রলীগ। পদ বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় নেতারা।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রকিবুল ইসলাম রকিব বলেন, নানা ধরনের জটিলতার কারণে এই উপজেলায় কমিটি দেওয়া হয়নি। পূর্বে সদর উপজেলায় কমিটি দেয়ার ব্যাপারে কেন্দ্রের সাথে যোগাযোগ করা প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু এখন এ অনুসরণ করায় বিষয়টি জটিল হয়ে গেছে।
ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল বলেন, ময়মনসিংহ সদর উপজেলার রাজনীতি এককচ্ছত্র আধিপত্যের মাধ্যমে চলত। যে কারণে দীর্ঘদিন কমিটি না থাকলেও কারো কোনো কথা নেই। তিনি বলেন, সদর উপজেলার ছাত্রলীগ অনেক আগেই তাদের কার্যকারিতা হারিয়েছে। তাদের বেশিরভাগ নেতাদের ছাত্রলীগ করার বয়স নেই। অনেকের বাচ্চার বয়সও ছাত্রলীগ করার উপযোগী হয়ে গেছে। এটা দেখভাল করার নেই।
জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রেজাউল করিম সুমন আমাদের কাগজকে বলেন, আমাদের যেসব কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ সেগুলো বিলুপ্ত ঘোষণা করা কবে। বিশেষ করে উপজেলাতে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত করে ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে।
দীর্ঘ ১৮ বছর এক কমিটি কীভাবে থাকে এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্থানীয়দের মধ্যে কোন্দলের কারণে এতদিন কমিটি হয়নি। তাছাড়া পূর্ববর্তী সময়ে কেন্দ্র থেকে কমিটি দেয়ার ব্যাপারে খুব বেশি আন্তরিক ছিল না। তবে আমরা কমিটি দেয়ার ব্যাপারে খুবই আন্তরিক। আমরা স্থানীয়দের প্রভাব-প্রতিপত্তি বা কোন্দলের কারণে কমিটি আটকে রাখবো না।




















