রাজনীতি ১৬ ডিসেম্বর, ২০২০ ০১:২৭

যে কারণে আল্লামা শফির মৃত্যুর তদন্ত দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

হেফাজতে ইসলামের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ও ইসলামী ঐক্য জোটের মহাসচিব আল্লামা মুফতি ফয়জুল্লাহ বলেন, আহম্মদ শফির মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। অস্বাভাবিকভাবে মৃত্যু হয়েছে উল্লেখ করে সরকারের কাছে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি করেন।

আজ বুধবার চট্টগ্রামে আল্লামা শাহ আহমদ শফির জীবনকর্ম, অবদান শীর্ষক আলোচনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এ মতবিনিময় সভায় বিপুল সংখ্যক আলেম-ওলামা অংশ গ্রহণ করে আহম্মদ শফির জীবনদর্শন নিয়ে আলোচনা করেন।

এ সময় তিনি আরও বলেন, এখন থেকে আমরা সামনে যাব, পেছনের দিকে যাব না। যারা ষড়যন্ত্র করেছে, মিথ্যাচার করেছে, অর্থের যোগান দিয়েছে, তারাই হেফাজতে ইসলামের মূল শত্রু। এছাড়া আন্দোলনকে যেমন সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে, তেমনি যেকোনো ধরনের ত্যাগ স্বীকার করার জন্য আলেম-ওলামাদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

কারা ঢাকায়, ফটিকছড়ি কিংবা হাটহাজারীতে ষড়যন্ত্র করেছে সময় হলেই জাতির কাছে সব প্রকাশ করারও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন আল্লামা মুফতি ফয়জুল্লাহ।

এ সময় হেফাজতে ইসলামের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মাইনুদ্দীন রুহী অভিযোগ করে বলেন, পরিকল্পিতভাবে আল্লামা আহমদ শফিকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার সাথে যারা জড়িত, তাদের বিচার বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে, এমন দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, জালেমরা জুলুম-অত্যাচার চালিয়েছে আহম্মদ শফির ওপর। পূর্ব-পরিকল্পিত উপায়ে হুজুরের সাথে বেয়াদবি করেছে। নির্মমভাবে আহত করা হয়েছে তাকে।

হেফাজত ইসলামের সাবেক আমির আল্লামা আহম্মদ শফির শেষ তিন দিনের কথা বর্ণনা করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন আলেম-ওলামারা। তারা অভিযোগ করে বলেন, হাটহাজারী মাদরাসায় হামলা, ভাঙচুর হয়েছে। আল্লামা শফির ওপর তিলে তিলে নির্যাতন করা হয়েছে।

গৃহবন্দি করে তিলে তিলে নির্যাতনের মাধ্যমে শাহাদাত বরণ করতে বাধ্য করা হয়েছে। খাবার, ওষুধ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। অ্যাম্বুলেন্স বন্ধ ছিল। এটাই হত্যার মূল কারণ। তদন্ত হলে কাদের এত ভয়! সমস্যাটা কোথায়। প্রশ্ন তোলেন আলেম-ওলামারা। সরকারের কাছে তদন্ত করারও দাবি জানানো হয়।

একজন সন্তান বাবার জানাজায় আসতে পারবে না, এ কেমন অবিচার। আনাস মাদানীর আব্বার জানাজায় আসতে পারে নাই কেন? এর থেকে বড় জুলুম আর কি হতে পারে। বলেন তিনি।

যারা শফি হুজুরের পক্ষে ছিল তাদের ওয়াজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়। বর্তমানে পুলিশ হুজুরদের দেখলে তল্লাশি করে, সন্দেহ করে। জায়গায় জায়গায় আটকায়। আগে তো এমন হয়নি। আহম্মদ শফির ওপর নির্যাতনের পরে এই ধরনের সমস্যা হচ্ছে। এই সব নির্যাতনের কুফল বলে অভিযোগ করেছেন বক্তারা।