রাজনীতি ১৫ মার্চ, ২০২১ ০৯:২৯

নিজেদের অর্থায়নে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

বারবার অন্যের কাছে হাত পাতা, আর ধার না করে নিজেদের অর্থ দিয়ে নিজেদের অবকাঠামো উন্নয়ন করা- যারা বিনিয়োগ করতে আসবে তাদের ঋণ নেওয়ার বিষয়টি আমরা নিজেদের অর্থ থেকে ব্যয় করতে পারি। তাতে দেশেরও লাভ, আমাদেরও আত্মবিশ্বাস জন্মাবে। আমরা যে পারি, বিশ্বের কাছে দেখাতে পারি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ সোমবার (১৫ মার্চ) বেলা পৌনে ১২টায় গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশ অবকাঠামো উন্নয়ন তহবিলের উদ্বোধন ও এই তহবিল থেকে ‘পায়রা বন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেলের ক্যাপিটাল ও মেইনটেনেন্স ড্রেজিং’ শীর্ষক স্কিমে অর্থায়নের লক্ষ্যে ত্রিপক্ষীয় ঋণচুক্তি সই অনুষ্ঠানে একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে অন্যের কাছে হাত না পেতে নিজের পায়ে চলতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমাদের দেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। অনেকে বলেন, ম্যাজিকটা কী? আমি বলি, এটা কোনো ম্যাজিক নয়। ম্যাজিকটা হচ্ছে দেশপ্রেম। দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ। আমার চিন্তা দেশের মানুষকে দু’পায়ে দাঁড় করিয়ে তাদের স্বাবলম্বী করে তোলা।

শেখ হাসিনা বলেন, বারবার অন্যের কাছে হাত পাতা, আর ধার না করে নিজেদের অর্থ দিয়ে নিজেদের অবকাঠামো উন্নয়ন করা- যারা বিনিয়োগ করতে আসবে তাদের ঋণ নেওয়ার বিষয়টি আমরা নিজেদের অর্থ থেকে ব্যয় করতে পারি। তাতে দেশেরও লাভ, আমাদেরও আত্মবিশ্বাস জন্মাবে। আমরা যে পারি, বিশ্বের কাছে দেখাতে পারি।

তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে আমাদের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়ে। এখানে অনেককে আমরা হারিয়েছি। একই সঙ্গে এই কারোনায় আমরা আরেকটি বিষয় দেখতে পাচ্ছি, আমাদের রিজার্ভ বেড়েছে, রেমিটেন্স বেড়েছে। এই রিজার্ভের টাকা কীভাবে উন্নয়নে ব্যয় করতে পারি, সেটাই চিন্তা করছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের ছয় মাসের আমদানির টাকাটা রাখতে হবে। দুর্যোগ-দুর্বিপাকের দেশ। যেকোনো সঙ্কটে খাদ্য যেন কিনতে পারি। ছয় মাসের টাকা রিজার্ভে রেখে বাকি টাকা বিনিয়োগ করতে পারি। এজন্য আমরা নিজস্ব তহবিল গঠন করার চিন্তা করেছি। এ থেকে বিনিয়োগকারীরা ঋণ নিতে পারবে। আর অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ করবো।

শেখ হাসিনা বলেন, পায়রা বন্দর আমি নিজেই করছি। মোংলা বন্দর চালু করেছি। মহেশখালীর মাতারবাড়ি বন্দর তৈরি হয়ে গেছে। সেটা আরও উন্নত হবে। আমাদের একটা গভীর সমুদ্র বন্দরও করতে হবে। ভৌগলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের কতগুলো সুবিধা রয়েছে। ভারত, নেপাল ও ভুটানকে বন্দরগুলো ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছি। আরও অনেক দেশও ব্যবহার করতে পারবে।

প্রধানমমন্ত্রী বলেন, আজ আমাদের অত্যন্ত আনন্দের দিন। উন্নয়নের ক্ষেত্রে নিজেদের অর্থায়নের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারলাম। রাবনাবাদ চ্যানেলের ক্যাপিটাল ও মেইনটেনেন্স ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এর মাধ্যমে আমাদের উন্নয়নের ছোঁয়া সারাদেশে পড়বে।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, উন্নয়ন তখনই হবে, দেশকে যখন চিনতে পারবেন, ভালোবাসতে পারবেন। চিন্তা-চেতনায় বিষয়টি আসবে। দেশটি সব সময় গণতান্ত্রিক ধারায় থাকেনি। তারপরও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে নানান পদক্ষেপ নিয়েছি। আওয়ামী লীগ ছাড়া যারাই ক্ষমতায় আসছে, তাদের মাথায় ছিল অন্যের কাছে হাত পাতা। নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। এটা তাদের চিন্তায় ছিল না।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছি। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমাদের নিজের পায়ে চলতে হবে। নিজেদের অর্থায়নে কাজ করতে হবে। আমরা আমাদের দেশকে উন্নত করবো, এটাই আমাদের লক্ষ্য। আর সে লক্ষ্য বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমাদের অনেক কাজ করার দরকার আছে।

ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল, নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা নিয়ে পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা করেন অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুর রউফ তালুকদার। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের নানা পদক্ষেপ ও উদ্যোগ তুলে ধরেন মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস।

বাংলাদেশ অবকাঠামো উন্নয়ন তহবিল (বিআইডিএ) থেকে ত্রিপক্ষীয় ঋণচুক্তি স্বাক্ষর করে অর্থবিভাগ, পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সোনালী ব্যাংক।