রাজনীতি ১৬ অক্টোবর, ২০২২ ০১:১৬

ঘনিয়ে আসছে নির্বাচন 

বাড়ছে ইসলামি দলগুলোর তোড়জোড়

নিজস্ব প্রতিবেদক: নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে ততই তৎপরতা বাড়াচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো। সে দৌড়ে পিছিয়ে নেই ইসলামি দলগুলোও। বড় দলগুলোর সাথে জোট বেধে নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়া কিংবা বিভিন্ন হিসেব মেলাতে শুরু করেছে দলগুলো। আবার আলাদা জোট গড়ারও চেষ্টা করছে কয়েকটি দল। তবে কমবেশি নির্দিষ্ট ভোটব্যাংক থাকায় কদর বাড়ছে ইসলামী দলগুলোর।

এসব দিলের মধ্যে  সাংগঠনিক শক্তিতে এগিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ৩৯টি দলের মধ্যে ইসলামী দলের সংখ্যা ১০টি। যুদ্ধাপরাধে জড়িত থাকায় বাতিল হয়েছে জামায়াতের নিবন্ধন। অন্যদিকে রাজনৈতিক দল না হয়েও বেশ প্রভাবশালী হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।
আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি—উভয় বলয়েই ইসলামী দলগুলোর গুরুত্ব বেশ। এবার কোন ইসলামী দল কোন জোটে যাবে এবং কারা এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে—তা এখনো স্পষ্ট নয়। যদিও নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে বেশ কয়েকটি দল।

জানা গেছে, এরই মধ্যে প্রার্থী বাছাই প্রায় শেষ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও ইসলামী ঐক্যজোট। আগামী জাতীয় নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে রেখেছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম। গত জুলাইয়ে দলটি বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ত্যাগ করে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট থেকে বিভিন্ন সময়ে বের হয়ে যাওয়া ইসলামী দলগুলো নিজেদের মধ্যে একটি জোট গড়ার চেষ্টা করছে। দলগুলো হলো—বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, ইসলামী ঐক্যজোট, খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন। এই প্রক্রিয়ার বাইরে আছে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মধ্যে মূলত এই দলগুলোরই প্রভাব বেশি।

জানা যায়, বিভিন্ন মহলের নানামুখী চাপ ও নজরদারির কারণে স্বস্তিতে নেই ইসলামী দল ও সংগঠনগুলো। বিশেষ করে সম্প্রতি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের (চরমোনাই পীর) ব্যাংক হিসাব তলব করা নিয়ে ক্ষুব্ধ দলটির নীতিনির্ধারকরা। তাদের ধারণা, নির্বাচন সামনে রেখে দলকে চাপে রাখতেই এমনটা করা হয়েছে। সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, ‘দেশকে স্থিতিশীল করতে নিরপেক্ষ প্রশাসনের অধীনে অবাধ নির্বাচনের বিকল্প নেই। আগামী নির্বাচনকে ঘিরে দেশ আরও সহিংস হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনই সুষ্ঠু হওয়া সম্ভব নয়।’

দলীয় সূত্রমতে, দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে ভেতরে ভেতরে প্রস্তুতি শেষ করছে জামায়াত। ইতোমধ্যে দেশের যেসব এলাকায় তাদের অবস্থান ভালো সেখানে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে দলটি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মা’ছুম গতকাল শনিবার কালবেলাকে বলেন, ‘বর্তমানে নির্দলীয় সরকারের দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনের প্রক্রিয়া চলছে। এর মাধ্যমে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হলে আমরা নির্বাচনে যাব। দলীয় সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনই সুষ্ঠু হয়নি। নির্বাচন হতে হবে নির্দলীয় সরকারের অধীনে।’ তবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রচার সম্পাদক জয়নাল আবেদিন কালবেলাকে জানান, ৩০০ আসনে এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। কোনো জোটে যাওয়ার পরিকল্পনা নেই।

 

টিআর