ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে কুমিল্লা বিভাগীয় গণসমাবেশের লিফলেট বিতরণকালে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের গুলিবিদ্ধ নয়ন মিয়া (২২) নামে এক ছাত্রদল নেতা নিহত হয়েছেন।
শনিবার (১৯ নভেম্বর) বিকেলে বাঞ্ছারামপুর থানা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নবীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিরাজুল ইসলাম।
এর আগে একই দিন বিকেলে উপজেলা সদরের মোল্লা বাড়ির সামনে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হন তিনি। তবে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের সময় পুলিশের ছয় সদস্য আহত হন। এদিকে ঘটনাস্থল থেকে বিএনপির দুই কর্মীকে রফিকুল ইসলাম (৪২) ও সাইদুর রহমানকে (২৫) আটক করেছে পুলিশ।
নিহত ব্যক্তি হলেন, উপজেলার চরশিবপুর এলাকার রহমত উল্লাহর ছেলে নয়ন মিয়া। তিনি উপজেলার সোনারামপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ছিলেন।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপি ও স্থানীয় লোকজন জানান, আগামী ২৬ নভেম্বর কুমিল্লায় বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলা সদর এলাকায় প্রচারপত্র বিলি করে। প্রচারপত্র বিতরণ শেষে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ময়মনসিংহের সাবেক ভিপি সায়েদুজ্জামান কামালের নেতৃত্বে উপজেলা সদরে মোল্লাবাড়ি থেকে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা একটি মিছিল বের করে। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন। মিছিলটি উপজেলা সদরের বাজার, বাঞ্ছারামপুর থানা ও উপজেলা পরিষদ এলাকা অতিক্রম শেষে পুনরায় মোল্লা বাড়ির মসজিদের সামনে গিয়ে জড়ো হয়। সেখানে বাঞ্ছারামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলমের নেতৃত্বে পুলিশ জড়ো হয়ে সায়েদুজ্জামান কামালকে আটক করতে যায়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের হাতাহাতি থেকে এক পর্যায়ে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া শুরু হয়।
এদিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোঁড়ে। এ সময় নয়ন গুলিবিদ্ধ হন। তবে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন বাঞ্ছারামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম (৪১), পরিদর্শক (তদন্ত) তরুণ কান্দি দে (৩২), উপ-পরিদর্শক আফজাল হোসেন (৩০) ও বিকিরণ চাকমা (৩২), কনস্টেবল শফিকুল ইসলাম (৩৩) ও বিশ্বজিৎ চন্দ্র দাস (২৬)।
এ ব্যাপারে বাঞ্ছারামপুর থানার ওসি নূরে আলম বলেন, শনিবার বিকেলে আচমকা মিছিল করে থানার সামনে বিএনপির শতাধিক থেকে দেড় শতাধিক নেতাকর্মী জড়ো হয়। তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট ছুড়তে থাকে। সেখানে টহল দলের দুই কনস্টেবলের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে তারা। এ সময় ওই কনস্টেবল এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে।
আমাদেরকাগজ/এইচএম






















