রাজনীতি ২৫ ডিসেম্বর, ২০২২ ০৯:১৮

গাড়িতে বসেই দেখছিলেন বিএনপির গণমিছিল শামীম ওসমান

ছবি - সংগৃহীত

ছবি - সংগৃহীত

কাগজ কাগজ ডেস্কঃ নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির গণমিছিল গাড়িতে বসেই দেখেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান। শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি গণমিছিলের আয়োজন করে। গণমিছিলে দলটির কেন্দ্রীয় একাধিক নেতা উপস্থিত ছিলেন। 

হঠাৎ করেই চাষাঢ়া এলাকার এক কোণে দেখা মিলল প্রভাবশালী সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমানের। 

শামীম ওসমান যানজটে আটকে আছেন, এমনটা মনে হলেও শেষতক প্রায় আধঘণ্টা ধরে নিজের গাড়িতে বসেই দেখলেন বিএনপির গণমিছিল। 

এ সময় শামীম ওসমান ও তার গাড়ির চালক ছাড়া আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মীও ছিলেন না। তবে গণমাধ্যমের চোখ এড়াতে পারেননি তিনি। বিএনপির মিছিল দেখছিলেন? 

এ সময় গণমাধ্যম কর্মীদের এমন প্রশ্ন শুনে স্বভাবসূলভ মুচকি হাসি দিয়ে হ্যাঁ-সূচক জবাব দিলেন শামীম ওসমান।
 
হঠাৎ কেন বিএনপির এই গণমিছিল দেখছেন- জানতে চাইলে শামীম ওসমান বলেন, বিএনপি ইদানীং মিছিল-মিটিংয়ে খুবই উচ্ছৃঙ্খল মন্তব্য করছে। খুবই নোংরা ভাষা ব্যবহার করছে। পুলিশের ওপর হামলা করেছে। একজন মানুষ মারা গেছে। এতে সাধারণ জনতা ও স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তি বিএনপির ওপর ক্ষিপ্ত। তারা বিশৃঙ্খলা করলে পুলিশ তাদের নিয়ন্ত্রণ করবে; কিন্তু আমাদের নিজ দলের বা স্বাধীনতার সপক্ষের কেউ যাতে রেগে গিয়ে উল্টা-পাল্টা কিছু না ঘটাতে পারে তাই দাঁড়িয়ে দেখছিলাম। বিশৃঙ্খলা-অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা তৈরি হলে সাধারণ মানুষের জানমালের সম্পদের হানি ঘটে- প্রাণহানি ঘটে। 

 

এগুলো রক্ষা দায়িত্ব সবার বলে তিনি জানান, বিএনপি মিছিল করবে এটা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। তাই বলে অরাজকতা সৃষ্টি করতে পারবে না। বঙ্গবন্ধু ও তার কন্যা শেখ হাসিনাকে নিয়ে তারা যে ভাষায় কথা বলে- এটাও রাজনৈতিক শিষ্টাচার না।

শামীম ওসমান আরও বলেন, ‘২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির প্রচুর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। সিদ্ধিরগঞ্জেই ৭ থেকে ৮ জন নেতাকর্মীকে খুন করা হয়েছে। বাসাবাড়িতে হামলা করেছে। আমার ভাইয়ের কারখানায় ভাংচুর-জ্বালাও-পোড়াও করেছে, বোবা প্রাণি ৩০০ গরুর বান কেটেছে। বিএনপি কেন, কোনো দলই বলতে পারবে না আমরা কারো ওপর হামলা ও মামলা করেছি। সব সময়ই সহাবস্থান ছিল। শৃঙ্খলা রক্ষায় যা যা করণীয় আমরা তাই করেছি। আমরা কোথাও কোনো প্রতিশোধ নেই নাই। নারায়ণগঞ্জ বিগত সময়ে শান্তিপূর্ণ ছিল। তাই বিএনপির কাছে অনুরোধ থাকবে। রাজনীতি করা সবার অধিকার আছে। আপনারা গণতান্ত্রিকভাবে করেন। গণতান্ত্রিক ভাষা ব্যবহার করেন।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কেন্দ্রীয় নেতাদের মুক্তির দাবিতে শনিবার বিকাল ৪টায় গণমিছিল বের করে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি। মিছিলকে কেন্দ্র করে শহরের মিশনপাড়া এলাকায় নেতাকর্মীরা জমায়েত হন। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে গণমিছিল শুরু করেন। বিএনপির মিছিলের কথা শুনে শহরের চাষাঢ়ায় একাই অবস্থান নেন শামীম ওসমান।

আমাদের কাগজ/এম টি