রাজনীতি ২২ মার্চ, ২০২৩ ১১:৩৬

আবারো আলোচনায় নিখোঁজ ‘ইলয়াস আলী’

ছবি - সংগৃহীত

ছবি - সংগৃহীত

আমাদের কাগজ ডেস্কঃ নিখোঁজের ১১ বছর হতে চলল। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী। সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনের দুবারের সাবেক এই সংসদ সদস্য সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতিও ছিলেন। ‘নিখোঁজের’ পর থেকে বিএনপির অভিযোগ, সরকার তাঁকে ‘গুম’ করে রেখেছে। 

কমিটিতে প্রথম সদস্য হিসেবে নাম রাখা হয়েছে ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে 'নিখোঁজ' হওয়া বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীকে। 

ইলিয়াস আলীর স্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তাহসিনা রুশদীর লুনা দ্বিতীয় সদস্য এবং তাদের ছেলে আবরার ইলিয়াস। 

ঘোষিত সিলেট জেলা বিএনপির কমিটিতে ইলিয়াস আলীকে ১ নম্বর সদস্য হিসেবে রাখা হয়। ফলে নিখোঁজ হলেও স্থানীয় রাজনীতিতে হঠাৎ যেন জোরেশোরে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছেন তিনি। দলটির তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা বলছেন, ইলিয়াস ‘নিখোঁজ’ হওয়ার পর দুবার জেলা বিএনপির কমিটি গঠিত হয়। প্রত্যেকবারই তাঁকে ১ নম্বর সদস্য রাখা হয়েছে। তাঁর নিখোঁজের বিষয়টি সাধারণ মানুষ এখনো সহানুভূতির চোখে দেখেন। এটি বিবেচনায় রেখেই দল ইলিয়াসকে মূল্যায়ন করেছে।

স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা বলেন, সিলেট-২ আসনে টানা তিনবার নির্বাচন করেছিলেন এম ইলিয়াস আলী। বিএনপির ‘নিখোঁজ’ এই নেতা বিজয়ী হয়েছিলেন দুবার। ২০০১ সালের আগে সাবেক অর্থমন্ত্রী প্রয়াত এম সাইফুর রহমান ছিলেন সিলেট বিএনপির একক নেতা। এরপর ইলিয়াস আলীর উত্থান হলে দুই ধারায় সক্রিয় ছিল সিলেট বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো। পরে ২০০৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর এক সড়ক দুর্ঘটনায় সাইফুর রহমানের মৃত্যু হলে ইলিয়াস আলী সিলেট বিএনপির একক নেতায় পরিণত হন।

বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির দুজন নেতা বলেন, ইলিয়াসের অনুপস্থিতিতে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা এখনো তাঁর নামে ঐক্যবদ্ধ। তাই তাঁর ‘গুমের’ পর যে কয়েকটি স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিয়েছে, সেখানে ভোটারদের সহানুভূতি পেতে প্রার্থীরাও ইলিয়াসের নাম আলোচনায় আনেন। প্রার্থীরা এ সুবিধা ভোটের মাঠে পেয়েছেনও। ইলিয়াসের অনুপস্থিতিকে দলীয় শক্তি হিসেবেই দল কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।

‘নিখোঁজ’ নেতাকে কমিটিতে রাখা প্রসঙ্গে জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘আমরা এখনো বিশ্বাস করি, ইলিয়াস আলী জীবিত আছেন। মূলত সরকার তাঁকে ‘গুম’ করে রেখেছে। এ সরকার ক্ষমতা থেকে চলে গেলে নিশ্চয়ই ইলিয়াস আলী ফিরে আসবেন। তিনি এ অঞ্চলের একজন জনপ্রিয় নেতা। তাই সব দিক বিবেচনায় তাঁকে কমিটিতে রাখা হয়েছে।’

 আমাদের কাগজ/এমটি