আমাদের কাগজ রিপোর্ট: বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাত (১৩ জুন) ১টা ৪০ মিনিটে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।বিএনপি চেয়ারপার্সনের ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার তাকে প্রাইভেটকারে করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান ইউএনবিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, “মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ম্যাডামকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।হাসপাতালের সপ্তম তলার একটি কেবিনে তাকে নেওয়া হয়েছে। এর আগে সোমবার দিনগত রাতে মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্য ড. এফ এম সিদ্দিকী ও ড. এ জেড এম জাহিদ হোসেন গুলশানের বাসভবনে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বোর্ড তাকে হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।“
গভীর রাতে হাসপাতালে নেওয়ার পেছনে বড় ধরনের কোনো জটিলতা রয়েছে কি-না, জানতে চাইলে বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, “খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার বিষয়টি তার চিকিৎসকেরা অতি গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের জটিলতায় ভুগছেন। নতুন করে জটিলতা এড়াতে তাঁকে গভীর রাতে হাসপাতালে ভর্তি করানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।”
দলীয় সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার অসুস্থতার খবর শুনে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক, দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কয়েকজন সিনিয়র নেতা তার বাসায় যান। পরে তার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এর আগে, এ বছর ২৯ এপ্রিল স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। পাঁচ দিন হাসপাতালে রেখে তার স্বাস্থ্যের বিভিন্ন পরীক্ষা করানো হয়।
২০২০ সালের ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্তি পেয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল থেকে বাসায় আসেন বিএনপি চেয়ারপারসন। ২০২১ সালের ১১ এপ্রিল করোনাভাইরাস পজিটিভ রিপোর্ট আসে তার। একই বছরের ১৫ এপ্রিল এভারকেয়ার হাসপাতালে সিটিস্ক্যান করানো হয়। ২৭ এপ্রিল কোভিড-১৯ ভাইরাসের পজিটিভ চিকিৎসার জন্য প্রথম এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। ১৯ জুলাই করোনাভাইরাসের টিকার প্রথম ডোজ টিকা নেন। ১৮ আগস্ট নেন দ্বিতীয় ডোজ। ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি বুস্টার ডোজ নেন তিনি।
৭৬ বছর বয়সী খালেদা জিয়া বুকে ব্যথা নিয়ে ২০২২ সালের ১০ জুন গভীর রাতে ফের এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। পরের দিন (১১ জুন) খালেদা জিয়ার হৃৎপিণ্ডের ব্লক অপসারণ করে একটি “স্টেন্ট” বসানো হয়েছিল। কিছুটা সুস্থ হওয়ার পরে ২৪ জুন তাকে বাসায় নিয়ে আসা হয়।
এরপর বাসা থেকেই এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে একটি মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
আমাদের কাগজ/টিআর




















