রাজনীতি ২৮ জুলাই, ২০২৩ ০৮:৩৭

শনিবার ঢাকার সব প্রবেশ মুখে ‘শান্তিপূর্ণ অবস্থান’

মহাসমাবেশ শেষে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা মির্জা ফখরুলের

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা শহরের সব গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশ মুখে শনিবার (২৯ জুলাই) বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি।

শুক্রবার (২৮ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে অনুষ্ঠিত মহাসমাবেশ থেকে এ ঘোষণা দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
কর্মসূচি ঘোষণার সময় ফখরুল বলেন, ভোটাধিকার হরণকারী কর্তৃত্ববাদী সরকারের পদত্যাগ, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন ও ইসি পুনর্গঠন, খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ ‘এক দফা’ দাবিতে শনিবার (২৯ জুলাই) বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ঢাকার সব প্রবেশ মুখে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করা হলো।

তিনি বলেন, আমরা যুগপৎ ধারায় যে আন্দোলন শুরু করেছি, সেই অনুযায়ী আগামীকালের কর্মসূচি ঘোষণা করছি। পরপর যে কর্মসূচিগুলো ঘোষণা করা হবে তার মধ্যে কালকের কর্মসূচি এটি- শনিবার বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ঢাকার সব গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশ মুখে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা করছি। আমাদের এই কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। এটা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। আমরা আশা করব প্রশাসন এই কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণভাবে পালন করতে দিয়ে তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করবে। 

মির্জা ফখরুল বলেন, আজ আমরা একা নই, বিদেশি রাষ্ট্রগুলোও বলছে- এই সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।

গত দুই দিনে মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, কিন্তু গ্রেপ্তার করে কি সমাবেশ আটকাতে পেরেছেন? পারেননি।

প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, দলীয় সরকারের আদেশ-নির্দেশে জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নেবে না। অন্যায়, বেআইনিভাবে জনগণকে গ্রেপ্তার করবেন না।  

মহাসমাবেশে আসা নেতাকর্মীদের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা। তাদের হাতে থাকা ব্যানারে সরকারের পদত্যাগ ও খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানানো হয়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস আজকের সমাবেশে বলেছেন, আমরা তো আর অনুমতি চাইব না। এবারও চাইনি, শুধু অবহিত করেছি।

তিনি বলেন, যারা মহা-সমাবেশে এসেছে তারা কোথায় থেকেছে? হোটেলে বা আত্মীয়ের বাড়িতে। যাদের আত্মীয়ের বাড়ি নেই তারা ফুটপাতে থেকেছে। পুলিশ আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করেছে। আমি তাদের মুক্তি দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। না হলে ৯০-এর মতো জেলের তালা ভেঙে আনব।

মানবাধিকার কর্মীদের জেলখানা পরিদর্শন করার আহ্বান জানিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, গিয়ে দেখেন জেলখানায় কীভাবে বিএনপির নেতাকর্মীরা অসহনীয় কষ্টে আছে।

তিনি বলেন, আমরা জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করছি। আমরা আর অনুমতি চাইব না। দেশের যেকোনো জায়গায় গণতান্ত্রিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালন করব, কেউ বাধা দিতে পারবে না।

নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে আব্বাস বলেন, ‘আপনারা রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে এখানে আছেন, জানি না কী খেয়েছেন, সেই খোঁজ আমি নিতে পারিনি। কিন্তু আপনাদের চেহারা দেখে আমি উদ্বেলিত। আপনাদের দেখে মনে হচ্ছে এই সরকারের আর সময় নেই। সরকারের সময় শেষ।’

মহাসমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বক্তব্যে কি শেখ হাসিনা ক্ষমতা থেকে নামবে? ভাষণে যদি দেশ স্বাধীন হতো, তাহলে শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণে দেশ স্বাধীন হতো। কিন্তু তা হয়নি, দেশ স্বাধীন হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে।

তিনি আরও বলেন, আমরা খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই। কিন্তু আদালত তাকে জামিন দিল না, কেন? কারণ, এই উচ্চ আদালত, নিম্ন আদালত শেখ হাসিনাকে আবার ক্ষমতায় রাখতে চায়। সুতরাং যে আদালত শেখ হাসিনার হাতের মুঠোয়, যে প্রশাসন তার হাতের মুঠো থেকে বেরুচ্ছে না সেই অবস্থায় ফয়সালা করতে হবে রাজপথে। যারা ঢাকায় আছেন, তারা ঢাকায় থাকেন। শেখ হাসিনার পদত্যাগের আগ পর্যন্ত ঘরে ফিরবেন না।

গয়েশ্বর আরও বলেন, এখন প্রধানমন্ত্রীর ছেলে-মেয়ে কোন দেশে আছে জনগণ জানে না। এখন শেখ হাসিনা কোন দেশে যাবেন তা তিনি জানেন না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সংবিধানের অধীনে নির্বাচন হবে, এটা ভুলে যান। সংবিধান কি আস্ত রেখেছেন? সংবিধান তো গিলে খেয়ে ফেলেছেন।

তিনি বলেন, এখন কোনো সংবিধান আছে? নির্বাচন কমিশন আছে? আমার বাংলাদেশের মানুষের ভোটাধিকার আবার চুরি করবেন, এটা হবে না। সংবিধান আপাতত একদিকে থাকুক।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান তার বক্তব্যে বলেন, আমরা বাংলাদেশে নতুন করে গণতন্ত্র কায়েম করব। 

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার নির্দেশে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে। আজকের সমাবেশ এই প্রত্যয় ব্যক্ত করছে।

বিএনপির কর্মসূচির কথা শুনলেই বর্তমান সরকারের মাথা খারাপ হয়ে যায় বলে মন্তব্য করেছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, একটু ধৈর্য ধরুন, আগামী দিনের কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আমরা বিজযয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যাব।
দুদু বলেন, বর্তমান সরকারকে ধাক্কা মেরে বুড়িগঙ্গায় ফেলে দিয়ে তারপর নির্বাচন করা হবে।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া এরশাদকে পদত্যাগ করিয়ে নির্বাচনে গিয়েছিলেন। স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছিলেন। তার সন্তান তারেক রহমান বলেছেন এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না। আমরা এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হতে দেব না।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, অল্প সময়ের মধ্যে বিএনপির সমাবেশে জনস্রোত তৈরি হয়েছে। আর আওয়ামী লীগের সমাবেশে চেয়ার খালি, সেখানে বাবুই ও চড়ুই পাখি ছাড়া কোনো লোক নেই।

রিজভী বলেন, সব বাধা ও জুলুম নির্যাতন উপেক্ষা করে নয়াপল্টনের মহাসমাবেশে মানুষ উপস্থিত হয়েছে। সুতরাং আর কোনো বাধা আমাদের দমাতে পারবে না।

বিএনপির এই নেতা বলেন, শেখ হাসিনা যে মানুষ হত্যা করেছেন এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর জুলুম করেছেন, সেটি আমেরিকার কংগ্রেস সদস্যরাও বলেছেন। তারা বলেছেন, জনগণের আন্দোলনে র‍্যাব-পুলিশ বাধা দিয়েছে, মানুষ হত্যা করেছে। কংগ্রেস সদস্যদের এ মন্তব্য আমাদের দেশের জন্য লজ্জার।

বৃষ্টির সময় বক্তব্য দিতে গিয়ে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শামা ওবায়েদ বলেন, সমাবেশে বৃষ্টির মাধ্যমে আল্লাহর রহমত শুরু হয়েছে। এ সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত নেতাকর্মীরা বৃষ্টির মধ্যে মাঠে অবস্থান করবেন।


বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, প্রবল বৃষ্টির মধ্যে নেতাকর্মীরা আজ এই মহাসমাবেশে যোগ দিয়েছেন। আমরা এবার সফল হবোই।

শুক্রবার সকাল থেকে নয়াপল্টনের সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি নয়াপল্টন এলাকা ছাড়িয়ে ফকিরাপুল ও নটর ডেম কলেজ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। অন্যদিকে শান্তিনগর, মৌচাক, কাকরাইল মসজিদ, সেগুন বাগিচাসহ বিজয় নগর কালভার্ট রোডজুড়ে অবস্থান নেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।