রাজধানীতে হরতালের প্রভাব নেই, তবে সড়কে যানবাহন কম
আমাদের কাগজ ডেস্ক: দেশে শুরু হয়েছে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল। তবে (রবিবার) (২৯ অক্টোবর) সকাল থেকে রাজধানীতে তেমন প্রভাব লক্ষ্য করা যায়নি। এর আগে (শনিবার) (২৮ অক্টোবর) দলীয় কার্যালয়ের সামনে সরকার পতনের এক দফা দাবিতে মহাসমাবেশের আয়োজন করে বিএনপি। তাদের ‘শান্তিপূর্ণ মহাসমাবেশে আওয়ামী লীগ ও পুলিশের যৌথ হামলা চালিয়েছে’ অভিযোগ এনে হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করে দলটি।
বিএনপি-জামায়াতসহ সমমনা দলগুলোর ডাকা হরতালে প্রায় প্রতিটি সড়কেই সবধরনের যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস হিসেবে অন্যান্য দিনের তুলনায় ভোর থেকে যানবাহনের সংখ্যা কিছুটা কম, যদিও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যান চলাচল কিছুটা বাড়ছে।
এদিকে ভোরের দিকে রাজধানীর ডেমরায় পার্কি করে রাখা একটি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে অসিম পরিবহনের ওই বাসে ভেতরে ঘুমিয়ে থাকা মো. নাঈম (২২) নামে এক শ্রমিক মারা গেছেন। দগ্ধ হয়েছে আরও একজন।
আজ( ২৯ অক্টোবর) হরতালের সমর্থনে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা রাজধানীর উত্তরা, গুলশান, তুরাগ, পল্লবী থানা এলাকায় মিছিল ও পিকেটিং করেছে। তবে বিএনপির নেতা-কর্মীদের অবস্থান কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
এদিকে নয়া পল্টনে বিএনপির কার্যালয় ঘিরে আছে পুলিশের সর্তক অবস্থান।
আতঙ্ক ও যাত্রী সংকটে রাজধানী থেকে দূরপাল্লার গণপরিবহন চলছে না। সবার মধ্যেই আতংক বিরাজ করছে বিএনপি-জামায়াতের হরতালকে কেন্দ্র করে। রবিবার সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনালগুলোতে দেখা গেছে এমন চিত্র।
যেসব চালক গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছেন, তাদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোথাও তেমন কোনও বাধার মুখে পড়তে হয়নি। তবে যেহেতু গতকাল রাজধানীতে বেশ কয়েকটিতে আগুন দেওয়া হয়েছে, তাই সবার মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক কাজ করছে।
সকালে রাজধানীতে অফিস বা কাজের সন্ধানে বের হওয়া কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের অনেকেই হরতালের বিষয়ে জানেন, কেউ আবার আত্মীয় স্বজনের কাছে শুনেছেন। তবে জীবিকার তাগিদেই বাইরে এসেছেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাভার পরিবহনের এক বাস চালক বলেন, ‘হরতালের মধ্যে এর আগে কখনও গাড়ি চালাইনি। আজ গাড়ি নিয়ে বের হতে একটু তো ভয় লাগছে। গাড়ি না চালালে আবার সংসার চলবে কেমনে। এইজন্য বের হলাম। তাছাড়া বাস মালিক বলেছেন— সমস্যা নাই, সাবধানে গাড়ি চালাও। যা হবে, পরে দেখা যাবে।’
রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন দেখা গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল ছিল রাস্তায়। পুলিশ সদর দফতরের মিডিয়া অ্যান্ড পিআর শাখার এআইজির দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইনামুল হক সাগর জানিয়েছেন, চলাচলের ক্ষেত্রে কোনোধরনের বাধার সম্মুখীন হলে বা আইনি সহায়তার প্রয়োজন হলে নিকটস্থ পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য বলা হচ্ছে। পুলিশ জনগণকে সবধরনের নিরাপত্তা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনগণের জানমাল ও সরকারি সম্পত্তি নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশের আইনি দায়িত্ব।
আমাদের কাগজ/এমটি