রাজনীতি ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০৭:৫৭

সংস্কার প্রসঙ্গে রিজওয়ানা হাসান

৫ আগস্টের পুনরাবৃত্তি কোনো রাজনৈতিক দল চাইবে না

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য সরকার বিভিন্ন কমিশন গঠন করেছে। এসব কমিশনে প্রস্তাব বাস্তবায়ন হবে কি না তা পুরোপুরি নির্ভর করছে রাজনৈতিক দলগুলোর মতৈক্যের ওপর। তবে নিশ্চয়ই কোনো রাজনৈতিক দল চাইবে না ৫ আগস্ট পুনরাবৃত্তি ঘটুক।

বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে উপদেষ্টা পরিষদের (কেবিনেট) বৈঠকে শেষে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ব্রিফিংকালে উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এসব কথা বলেন।

এরশাদ সরকারও নানা কমিশন গঠন করে এসব সংস্কারে উদ্যোগ নিয়েছিল কিন্তু হয়নি, এবার কী হবে— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে রিজওয়ানা হাসান বলেন, এরশাদের সরকারে সঙ্গে আমাদের মৌলিক কিছু পার্থক্য আছে। তিনি একটা সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছিলেন। এবারের প্রেক্ষাপটটা ভিন্ন। এবার ছাত্রজনতার গণঅভ্যত্থানের দুটি মূল শব্দ ছিল। তাহলো- বৈষম্যবিরোধী ও সংস্কার। আমাদের লক্ষ্য একটি সুসংহত গণতন্ত্রে দিকে দেশকে নিয়ে যাওয়া। এরশাদের সরকারের সঙ্গে আমাদের ব্যবধানটা এখানে।

তিনি বলেন, সংস্কারের জন্য কমিশনগুলো প্রাথমিকভাবে তিন মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে। এগুলো আদৌ বাস্তবায়িত হবে কি না তা সম্পূর্ণ নির্ভয় করছে রাজনৈতিক ঐক্য ও তার সপক্ষে ঐক্য গড়ে তুলতে পারি না কি সেটার ওপর। এজন্য সংস্কারের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো মতামত চাচ্ছি।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, এরশার সরকার সংস্কার বাস্তবায়ন করতে পারেনি এর ফল কি হয়েছে সবাই দেখেছে। বিগত রাজনৈতিক দল সংস্কার করেনি তার ফল ৫ আগস্ট দেখেছে। কোন রাজনৈতিক দল নিশ্চয় চাইবে না তারাও অজনপ্রিয় হয়ে একই ফলাফল ভোগ করুক। এজন্য প্রথমে সংস্কার সংলাপে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেছি। সংস্কারের প্রস্তাব আসায় আমরা ফের সংলাপ করব। রাজনৈতিক মতৈক্য গড়ে সংস্কার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার, সংশোধনী এনে নির্বাচনে যাবো। কারণ রাজনৈতিক দলগুলো বলছে আগে সংস্কার তারপর নির্বাচন। তারা নিশ্চয় এটা বুঝবে।

সংবাদ সম্মেলনে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বুধবার জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচন কমিশন, পুলিশ প্রশাসন, বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন, জনপ্রশাসন ও সংবিধান সংস্কার কমিশনসহ ছয়টি কমিশন গঠনের কথা জানান। এসব কমিশন আগামী তিন মাসের মধ্যে সংস্কারের প্রতিবেদন জমা দেবে।