নিজস্ব প্রতিবেদক
দৌলতদিয়ায় ফেরিঘাট ও ফেরি সঙ্কটের সাথে নদীতে পানি কমে যাওয়ায় নাব্যতা সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এতে যানবাহন পারাপারে ট্রিপ সংখ্যা যেমন কমে গেছে, তেমনি ফেরি পারের অপেক্ষায় কয়েকশ' যানবাহন যানজটে আটকে আছে। আগে যেখানে ৬টি ফেরিঘাট দিয়ে যানবাহন পারাপার হতো, বর্তমানে সেখানে ৩টি ঘাট দিয়ে পারাপার করা হচ্ছে।
আজ রোববার পারের অপেক্ষায় বেশি ছিল পণ্যবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাস। সকাল থেকে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় যানজটের এ চিত্র দেখা যায়। যানজটে পড়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে যাত্রী ও চালকেরা।
২০টি ফেরির স্থলে ২টি ফেরি শিমুলিয়া কাঠালবাড়ি নৌরুটে স্থানান্তর করা হয়েছে, একটি ফেরি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ রাখা হয়েছে। ৬ নং ফেরিঘাটটির পন্টুন থেকে পানির স্তর কমে যাওয়ায় এ ঘাটে গত ২০ দিন কোন ফেরি ভিড়তে পারছে না। আর ১ ও ২ নং ফেরিঘাট দুটি নদী ভাঙেনে বিলিন হয়েছে। এক বছরের বেশি সময় পার হলেও, এই ঘাট দুটি সচল হয়নি।
এদিকে ২০টি ফেরির স্থলে বর্তমানে ১৫টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পার করা হচ্ছে। ফেরিঘাট ও ফেরি সঙ্কট আর নাব্যতা সঙ্কটে সঠিকভাবে যানবাহন পারাপার সম্ভন না হওয়ায় ফেরির ট্রিপ সংখ্যা কমে গেছে। এই উভয়সঙ্কটের বলি হচ্ছে ঘাট দিয়ে পার হওয়া যানবাহনগুলো! কয়েকশ' যানবাহনের যানজট লেগেই থাকছে।
এমন ভোগান্তি প্রায় প্রতিদিনই পোহাতে হচ্ছে দৌলতদিয়া ঘাটে পার হতে আসা মানুষদের। বর্তমানে ৭টি রোরো ফেরি ও ৮টি ইউটিলিটি ফেরি দিয়ে যানবাহন পার করা হচ্ছে।
দৌলতদিয়ার সহকারী ঘাট ব্যাবস্থাপক খোরশেদ আলম সাংবাদিকদের জানান, দৌলতদিয়া প্রান্তের ৬টি ফেরিঘাটের ৩টি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। পানি কমে যাওয়ায় নাব্যতা সঙ্কট দেখা দেয়ায় ৬ নং ফেরিঘাট দিয়ে যানবাহন পারাপার বেশ কয়েকদিন বন্ধ রাখা হয়েছে। নাব্যতা সঙ্কটে পন্টুন নামানো হলে পারাপার স্বাভাবিক হবে।
তিনি আরও জানান, যান্ত্রিক ত্রুটি ও ফেরি স্থানান্তরের কারণে ফেরি সংখ্যা দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে কমে গেছে। এ কারণে কিছু পণ্যবাহী যানবাহন ফেরি পার হতে মহাসড়কে সিরিয়ালে রয়েছে। বর্তমানে দৌলতদিয়া নৌরুটে রোরো ও ইউটিলিটি মিলে ১৫ ফেরি দিয়ে যানবাহন পার করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, প্রতি বছরই নদী ভাঙনের কবলে পড়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকা। ধীরে ধীরে ভাঙতে ভাঙতে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট, লঞ্চঘাট ও এর আশপাশের এলাকা এখন সংকুচিত হয়ে প্রধান সড়কের ১০ গজের কাছে এসে ঠেকেছে। প্রতিবছর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ভাঙন শুরু হলে এসব স্থানে জরুরিভাবে বালুভর্তি জিও বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়। তবে শুকনো মৌসুমে স্থায়ী কোনো কাজ না করায় দৌলতদিয়া ফেরিঘাট অঞ্চল বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ভাঙন কবলিত স্থানে প্রতিবছর বালুভর্তি বস্তা ফেলায় সরকারের অর্থ শুধু জলেই যাচ্ছে। ভাঙন রক্ষায় হচ্ছে না কোন স্থায়ী সমাধান। তাই ঘাটসহ এর আশপাশের এলাকা স্থায়ীভাবে রক্ষার জোর দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।
২০১৯ সালের প্রথম দিকে ঘাট সংস্কার, স্থায়ীভাবে নদী শাসন, সৌন্দর্য বর্ধন এবং পর্যটন কেন্দ্রের কাজ একনেকে পাশ হলেও আজ পর্যন্ত কোন ধরণের প্রক্রিয়া ও পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেনি বিআইডব্লিউটিএ ও পানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে ২ ও ৩ নং ফেরিঘাট এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত বছর সবচেয়ে বেশি ভাঙন হয় ১, ২ ও ৩ নং ফেরিঘাট এলাকায়। সেসময় ফেরিঘাট এলাকার পাশে বসবাসরত প্রায় এক হাজারের বেশি পরিবারের ৬ থেকে ৭ হাজার মানুষ ভাঙনের কবলে পড়ে নিঃস্ব হয়েছেন। এখনও আতঙ্ক কাটেনি এখানে বসবাসরত পরিবারগুলোর। দেড় বছর পার হলেও ১ ও ২ নং ফেরিঘাট দুটি আজও চালু করতে পারেনি কতৃপক্ষ।
রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল আহাদ বলেন, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া উভয় প্রান্তে ভাঙন রোধে প্রটেকটিভ ওয়ার্কের কাজ করা হবে। দৌলতদিয়ায় ৬ কিলোমিটার ও পাটুরিয়ার ২ কিলোমিটার অংশে কাজ হবে। বিআইডব্লিউটিএ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড ইতোমধ্যে নদী তীর সংরক্ষণ কাজের ডিজাইন করেছে।
বিআইডব্লিউটিএ প্রকৌশল বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক সাজেদুর রহমান বলেন, স্থায়ী প্রতিরক্ষার সাথে ফেরি ঘাটগুলোর উন্নয়নকাজ পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বিআইডব্লিউটিএ যৌথভাবে সম্পন্ন করবে। আশা করছি খুব দ্রুতই প্রকল্পের কাজ শুরু করতে পারবো।





















