ডেস্ক রিপোর্ট
দেশে করোনার মহামারির মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ালেও অন্যান্য পেশার মানুষের মতো কোনো স্বীকৃতি পাননি বলে অভিযোগ করেছেন পৌরসভার মেয়ররা।
তাদের দাবি, মেয়রদের কাজের স্বীকৃতি না দেয়া, সমন্বয়ের অভাব ও তথ্যের অভাবে সাফল্য প্রচার না হওয়ায় তাদের কর্মকাণ্ড প্রকাশ্যে আসে না।
সোমবার (৭ ডিসেম্বর) করোনা পরিস্থিতিতে শহর এলাকার দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থান বিষয়ক এক ওয়েবিনারে এসব কথা বলেন বিভিন্ন পৌরসভার মেয়রসহ অন্যান্য বক্তারা।
অনুষ্ঠানে পৌরসভার মেয়ররা বলেন, করোনায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করার জন্য পুলিশ-চিকিৎসকদের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ শহরে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে পরিচ্ছন্ন কর্মী, পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারী, মেয়র ও কাউন্সিলররা পরিশ্রম করেছেন। আর্থিক টানাপোড়নের মধ্যেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এখনো নাগরিক সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু তাদের এ কাজ অনেকটাই লুকায়িত রয়েছে।
মেয়ররা মনে করেন, করোনার মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যেসব কাজ তারা করেছেন তার স্বীকৃতি পেলে আগামীতে নাগরিক সেবার কাজে আরও উৎসাহ বাড়বে।
নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম বাংলাদেশের সহযোগিতায় ওয়েবিনারের আয়োজন করে মিউনিসিপ্যাল অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ম্যাব)। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিয়েছে ইউএনডিপির প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের (এলআইইউপিসি), স্থানীয় সরকার বিভাগ ও এফসিডিও।
ওয়েবিনারে অংশ নিয়ে পৌর মেয়ররা বলেন, মহামারি কোভিড-১৯ এর কারণে বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশও এর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় যথাসাধ্য চেষ্টা করে চলেছে। নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও দেশের পৌরসভাগুলো পরিস্থিতি মোকাবেলায় চেষ্টা চালিয়েছে।
সরকারি, বেসরকারি, এনজিও এবং দাতাসংস্থাগুলোর অর্থায়ন ও পৌরসভাগুলোর নিজস্ব অর্থায়নে এ মহামারির প্রভাব প্রতিরোধের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পৌরসভার মেয়ররা। দেশের বেশিরভাগ পৌরসভায় আর্থিক টানাপোড়ন প্রকট থাকায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে মৌলিক সেবাদান বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এরমধ্যে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আসছে। এসব সংকট থেকে উত্তরণের জন্য সরকার ও দাতা সংস্থাগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা।
ওয়েবিনারে ম্যাব সভাপতি ও নীলফামারী পৌরসভার মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ বলেন, করোনা মোকাবেলায় দেশের পৌরসভার মেয়ররা অনেক কাজ করেছেন। দেশে যখন করোনা আক্রান্ত শুরু হয়, তখন সরকারি নির্দেশনায় পৌরসভাগুলো জনসচেতনতায় মাইকিং, লিফলেট বিতরণ, জনসাধারণের চলাচলে নিয়ন্ত্রণসহ সবধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এরপর সরকারের লকডাউন ঘোষণার পর, কেউ যেন না খেয়ে থাকেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন ঘোষণার পর পৌর মেয়ররা নিজের জীবন বাজি রেখে জনসাধারণকে সার্বিক সহায়তা দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ওই সময় থেকে পৌরসভার আয় কমে গেছে। নাগরিকরা কর দেয়নি, বাজার থেকে রাজস্ব আসেনি। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় পৌর মেয়ররা আরও ভালো কাজ করতে পারবে, যদি সরকারি-বেসরকারি ও এনজিওসহ দাতাসংস্থাগুলো পৌর মেয়রদের প্রণোদনা দিয়ে সহযোগিতা করে।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও শরীয়তপুর পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলাম কোতোয়াল বলেন, করোনা মহামারি মোকাবেলায় সরকার নানা প্রদক্ষেপ নিয়েছে। এরমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ওয়াজ মাহফিল না করা, কোনো রকম জনসমাগম না হওয়ার নির্দেশনা থাকলেও ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনার স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে। একদিকে জনসমাগম না করতে নিষেধ অন্যদিকে নির্বাচনের অনুমতি। দুইটা বিষয় একসঙ্গে সামঞ্জস্য হচ্ছে না। নির্বাচন কয়েক মাস পিছিয়ে দিলেও সমস্যা হতো না।
গোপালগঞ্জ পৌর মেয়র লিয়াকত আলী বলেন, গোপালগঞ্জ পৌরসভার করোনাভাইরাসের আক্রান্ত বেশি ছিল। করোনা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছি, সফলও হয়েছি। তবে সফল হওয়ার পেছনে সরকারি-বেসরকারি ও এনজিও সংস্থাগুলোর সহায়তা ছিলো।
নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম বাংলাদেশের সভাপতি মতিন আব্দুল্লাহ বলেন, ঢাকা শহর হচ্ছে একটি অপরিকল্পিত শহর। অবকাঠামোসহ নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অপরিকল্পিতভাবে হয়েছে। একইসঙ্গে শহরে বসবাসের জনঘনত্বও বেশি। ফলে করোনা মোকাবেলায় সরকারের নানা কর্মসূচির পরেও সফল হতে পারেনি।
পৌর মেয়রদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, পৌরসভা নিয়ে আপনারা মাস্টার প্ল্যান করেন। অবকাঠামোসহ নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করেন। যদি পরিকল্পনা করে উন্নয়ন করা যায়, তাহলে ঢাকা শহরের মতো সমস্যা হবে না।
বাংলাদেশ পৌরসভা সমিতির (ম্যাব) সভাপতি ও নীলফামারী পৌরসভার মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সাংবাদিক অমিতোষ পালের সঞ্চালনায় মেয়রদের মধ্যে আরও অংশ নেন বগুড়ার অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবুর রহমান, ফরিদপুরের খন্দকার মো. কমরুজ্জামান মাজেদ, মাদারীপুরের খালিদ হোসেন, সোনাইমুড়ীর মোতাহের হোসেন, ঝিনাইদহের সাইদুল করিম মিন্টু, গোপালগঞ্জের লিয়াকত আলী, কুড়ীগ্রামের তারিক আবুল আলা।
এছাড়াও বক্তব্য দেন এফসিডিও’র সামাজিক উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা আনোয়ারুল হক, এলআইইউপিসি প্রকল্পের আন্তর্জাতিক কারিগরি সহায়তা বিষয়ক উপদেষ্টা যোগেশ প্রধানং, ইউডিজেএফবি’র সভাপতি মতিন আব্দুল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক সোহেল মামুন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল খান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাসান ইমন, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা সম্পাদক সাইদুল ইসলাম এবং কার্যনির্বাহী সদস্য, রাশেদ আহমেদ ও মেহেদী হাসান বাধন প্রমুখ।





















