নিজস্ব প্রতিবেদক: চাকরি প্রত্যাশী ব্যাক্তির কোনো তথ্য মিলেনা তার দেয়া ঠিকানায় এর পিছনের রহস্যর খোজতে বেরিয়ে আসে নরসিংদীর পরিবার পরিকল্পনার পরিদর্শক আফজাল শরীফের নাম। জানাযায়, নিজের স্ত্রীকে পরিবারকল্যাণ সহকারী পদে চাকরি পাইয়ে দিতে ঠিকানা পরিবর্তন করে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে নরসিংদীর পরিবার পরিকল্পনার পরিদর্শক আফজাল শরীফের বিরুদ্ধে। লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষায় নির্বাচিত হওয়ার পর চূড়ান্ত যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আবেদনে দেওয়া ঠিকানায় খুঁজে পাওয়া যায়নি আফজাল শরীফের স্ত্রী মনিরা আক্তারের কোনো তথ্য।
পরীক্ষার আবেদনপত্রে যেঠিকানা দেয়া হয়েছে সে ঠিকানায় মনিরা আক্তারের ঠিকানা চরপাড়া গ্রামে। কিন্তু টানা তিন দিন চরপাড়া এলাকা ঘুরেও খুঁজে পাওয়া যায়নি মনিরা আক্তার ও তার পরিবারকে। তাদের সন্ধান মিলেছে না গ্রামে।
এদিকে এ ঘটনায় প্রশাসন বলেছে, অভিযোগ প্রমাণ হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক, পরিবার পরিকল্পনা সহকারী ও আয়াসহ ১১৭টি পদে জনবল নিয়োগের জন্য ২০২১ সালের ৩১ আগস্ট জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয় অধিদপ্তর। বিজ্ঞপ্তিতে পরিবার পরিকল্পনা সহকারী পদে কেবল পাঁচদোনা ইউনিয়নের ৫/৬ নম্বর ওয়ার্ডের (চরমাহমুদপুর, চরমাধবদী, পাকই, চরপাড়া, বাগবাড়ি, কংশাদি, পাটুয়া) গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারাই যোগ্য হবেন বলে উল্লেখ করা হয়। এ অনুযায়ী উল্লিখিত গ্রামে বাড়ি না হলেও নিজের স্ত্রীকে চাকরি পাইয়ে দিতে স্থায়ী ঠিকানা গোপন করার অভিযোগ উঠেছে আফজাল শরীফের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় পাঁচদোনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান জানান, মনিরা আক্তার পাঁচদোনা ইউনিয়নের নেহাব গ্রামের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা ও তার বাবার বাড়ি রায়পুরা উপজেলায়। তিনি কী করে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শূন্য পদে আবেদন করেছেন, তা জানি না। যেসব কাগজপত্র দাখিল করা হয়েছে, তা তিনি কীভাবে সংগ্রহ করেছেন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমি তাকে কোনো পরিচয়পত্র দিইনি। হয়তো আমার সাইন জাল করেছেন। নিয়োগের স্বচ্ছতা যাচাইয়ের জন্য মনিরার প্রার্থিতা বাতিল করা দরকার।
ইউপি ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নজরুল ইসলাম গাজী বলেন, চরপাড়া এলাকায় আফজাল তার বোন বিয়ে দিয়েছেন। বোন বিয়ে দিয়ে সে আমার এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে গেল কীভাবে, আমার জানা নেই। সরকারি চাকরির লোভে সে এসব জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছে।
এদিকে প্রাথমিকভাবে তথ্য গোপন করে জালিয়াতির প্রমাণ পেয়েছে জেলা প্রশাসনের গঠিত যাচাই-বাছাই কমিটি।
সরেজমিনে তদন্তে আসা পাঁচদোনা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শান্তি রঞ্জন দাস বলেন, আমি তিন দিন চরপাড়া ঘুরে মনিরা নামে কাউকে খুঁজে পাইনি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকার স্থানীয় লোকদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি চরপাড়া এলাকায় তারা থাকেন না। তাদের বাড়ি নেহাব গ্রামে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মনিরার স্বামী আফজাল শরীফ বলেন, নেহাব গ্রামে আমাদের স্থায়ী ঠিকানা। তবে আমরা অচিরেই আবেদন করা এলাকায় বসতি গড়ব। জায়গা কেনার জন্য কথা হচ্ছে। কার্যক্রম চলমান আছে। তবুও যদি আমার স্ত্রী চাকরির অযোগ্য হয়, তাহলে কর্তৃপক্ষ যা সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই চূড়ান্ত হবে।
ঠিকানা কেন জালিয়াতির করলেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ঠিকানা দুইটা ব্যবহার করা যায়। কর্তৃপক্ষ বাদ দিলে মেনে নেব। নেহাব থেকে চরপাড়ায় আবেদন করা যায় কিনা এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি চুপ থাকেন।
নরসিংদী স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক ও নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব অরবিন্দু দাস বলেন, অভিযোগ প্রমাণ হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে ঠিকানা যাচাই-বাছাই করছে। ঠিকানা জালিয়াতি করলে তাকে বাদ দেওয়া হবে।
আমারে কাগজ/ইআ




















