সারাদেশ ১৫ ডিসেম্বর, ২০২২ ০৫:২৮

ফারদিনের ‘আত্মহত্যা’, ডিবির হারুনের সঙ্গে বৈঠক করে যা বললেন বুয়েট শিক্ষার্থীরা

ছবি - সংগৃহীত

ছবি - সংগৃহীত

আমাদের কাগজ ডেস্কঃ ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) গতকাল দাবি করেছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র ফারদিন নূর পরশ আত্মহত্যা করেছেন। তবে ডিবির এই দাবি মানতে নারাজ ফারদিনের পরিবার ও সহপাঠীরা। সে জন্য ডিবির আহ্বানে ফারদিনের আত্মহত্যার ‘তথ্য-প্রমাণ’ জানতে মিন্টো রোডে সংস্থাটির কার্যালয়ে গিয়েছিলেন বুয়েটের ৩১ জন শিক্ষার্থী। 

বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর) ডিবিপ্রধানের সঙ্গে আলোচনা শেষে বেরিয়ে সাংবাদিকদের কাছে ফারদিনের মৃত্যুর বিষয়ে ডিবির কর্মতৎপরতায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বুয়েট শিক্ষার্থীরা। তবে তারা বলেছেন, ‘কিছু কিছু জায়গায় কিছু গ্যাপ আছে, কিছু অস্পষ্টতা আছে। এগুলো নিয়ে আরও পরিষ্কার হওয়ার দরকার আছে।’ 

 

ফারদিনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত শেষে গতকাল (বুধবার) ডিবিপ্রধান হারুন বলেন, ঘটনার তদন্ত করে ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনায় এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে এটি প্রতীয়মান হয়েছে যে ফারদিন আত্মহত্যা করেছেন।

এর প্রতিক্রিয়া জানাতে আজ সকাল ১০টায় বুয়েট শহীদ মিনারে প্রতিবাদ সমাবেশ ডেকেছিলেন বুয়েটের একদল শিক্ষার্থী। তবে ডিবি কর্মকর্তাদের আহ্বানে ‘আত্মহত্যার প্রমাণ’ দেখতে ওই কর্মসূচি স্থগিত করেন তারা। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ডিবি কার্যালয়ে যায় বুয়েট শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল। 

সেখানে ডিবিপ্রধান হারুনসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুপুর প্রায় দুইটা পর্যন্ত আলোচনা করে প্রতিনিধি দলটি। আলোচনা শেষে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বুয়েট শিক্ষার্থীরা। প্রতিনিধি দলে থাকা বুয়েট ছাত্র তাহমিদ হোসেন বলেন, ‘ডিবির তদন্তের যে আলামতগুলো ছিল, তারা সেগুলো আমাদের দেখিয়েছে। আলামতগুলো আমাদের কাছে প্রাসঙ্গিক বলে মনে হয়েছে। এগুলোর পেছনে তারা বেশ এফোর্ট দিয়েছেন বলেই মনে হয়েছে। কিন্তু কিছু কিছু জায়গায় হয়তো কিছু গ্যাপ আছে, কিছু অস্পট আছে। এগুলো নিয়ে আরও পরিষ্কার হওয়ার দরকার আছে। এগুলো নিয়ে তারা সামনে আরও কাজ করবেন বলে আশা করি। এ ব্যাপারে তারা আমাদের একটা আশ্বাস দিয়েছেন।’

তাহমিদ বলেন, ‘একটা গ্যাপ হলো, ব্রিজের যে পারে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল ফারদিনকে, সেখান থেকে যে মাঝখানে ব্যাক করেছে, ওই জায়গায় তার সঙ্গে কে ছিল বা সে একদম একা ছিল কিনা- এ বিষয় পরিষ্কার নয়। লেগুনাচালক নাকি বলেছেন, দুইজনকে নামানো হয়েছিল। তার সঙ্গে আরেকজন নেমেছিলেন। কে নেমেছিলেন, সেটা পরিষ্কার নয়।’

 

প্রসঙ্গত, এর আগে বহুল আলোচিত বুয়েট শিক্ষার্থী ফারদিন নুর পরশের মৃত্যু সংক্রান্ত প্রেস ব্রিফিং-এ একটি সিসিটিভি ফুটেজ হাতে পাওয়ার জানান র‍্যাব। বুয়েট ছাত্র ফারদিন নূর পরশ স্বেচ্ছায় ডেমরা সুলতানা কামাল ব্রিজ থেকে নদীতে ঝাঁপ দেন বলে দাবি করেছে সংস্থাটি। বুধবার (১৪ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‍্যাব সদরদপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। এসময় একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সংস্থাটি।

আমাদের কাগজ/এম টি