সারাদেশ ১১ মে, ২০২৩ ০৫:৩৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কলা খেয়ে ক্ষমা চেয়ে মালিককে চিঠি দিল চোর

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়া আখাউড়ায় চুরির পর ‘পরিমাণ মতো’ কলা খেয়ে চিঠির মাধ্যমে ক্ষমা চেয়ে বাকি কলা ফেরত দেয়ার এক ব্যতিক্রম ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় চিঠিতে গালিগালাজ করতে নিষেধ করা হয় এবং সেটি অব্যাহত রাখলে আবারও চুরির হুমকি দেয়া হয়েছে।

বুধবার (১০ মে) ভোরে উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের বাউতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। 

জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে বাউতলা গ্রামে পেঁপে, কলা, আমসহ নানা প্রকারের ফল চুরির ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফল চুরি হওয়ায় অনেকের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। ওই গ্রামের আবু তাহের মিয়ার মেয়ে আসমা আক্তার এবং সাদ্দাম হোসেনের বাড়ি থেকে কলা ও পেঁপে চুরি হয়। এ নিয়ে আসমা আক্তার কষ্টে বকাঝকা করেন। 

বুধবার ভোরে আসমার বারান্দায় চুরি হওয়া একটি পাকা কলার কাঁদি রেখে যায় চোর। একইসঙ্গে একটি চিঠিও রেখে যায়।

চিঠিটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

‘আমরা আপনার কলা গাছ থেকে কলা চুরি করেছি। তাই আপনারা আমাদেরকে গালাগালি করেছেন। আমরা আমাদের ভুল বুঝতে পেরেছি। তাই আমাদের পরিমাণ মতো কলা খেয়ে বাকিটা আপনার জন্য নিয়ে এসেছি। আপনারা আমাদেরকে মাফ করে দেন। আর যদি গালাগালি করেন তাহলে বাকি কলা নিয়ে যাব।’ 

এ বিষয়ে সাদ্দাম হোসেন বলেন, বাড়িতে কোনো গাছের ফল-ফলাদি রাখা যাচ্ছে না। শখ করে বিভিন্ন জায়গা থেকে এনে কলা, পেঁপেসহ নানা প্রকারের ফলের গাছ লাগানো হয়। অনেক গাছে ফল এসেছে। কিন্তু কে বা কারা রাতের আঁধারে নিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, একটি চিঠি পাওয়ায় স্থানীয় ইউপি সদস্যের মাধ্যমে সন্দেহমূলক ছেলেদের হাতের লেখা দেখলে বুঝতে পারা যাবে এ কাজগুলো কারা করছে। সবার মাঝে কৌতূহল জেগেছে- গ্রামে এসব কারা করছে সে বিষয়ে জানার জন্য।

ইউপি সদস্য জিতু মিয়া বলেন, মৌসুমি ফল মানুষ শখ করে বাড়ির আশপাশে লাগিয়ে থাকেন। এসব চুরি করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা দুঃখজনক।


আমাদেরকাগজ/এইচএম