পিকনিকের ট্রলারডুবি : এখনও নিখোঁজ ৫
ছবি - সংগৃহীত
আমাদের কাগজ ডেস্ক: মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় পদ্মা নদীতে বাল্কহেডের ধাক্কায় পিকনিকের একটি ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে।এতে আট জন নিহত এবং এখনো নিখোঁজ পাঁচ বলে নৌপুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন। এর আগে, শনিবার রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
এর আগে একই দিন রোববার সকালে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয় ডুবুরি দলের সদস্যরা।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন, হ্যাপি (২৮), পপি (২৬), শাকিব (৮), মোকসেদা (৪২), রাকিব (১২), সাজিবুল (৪), ফারিহান (১০) ও সজীব। তারা সবাই সিরাজদিখান উপজেলার লতাব্দি ইউনিয়নের বাসিন্দা।
জানা গেছে, শনিবার (৫ আগস্ট) বিকেলে লৌহজংয়ে পিকনিকের একটি ট্রলারের সঙ্গে বালুবাহী বাল্কহেডের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় ৪৬ জন যাত্রী নিয়ে ডুবে যায় ট্রলারটি। পরে আটজনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। কিন্তু এখনও নিখোঁজ রয়েছেন আরও পাঁচজন।
এদিকে এ ঘটনায় জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ৩৩ জনকে। তবে শনিবার রাত ২টার দিকে উদ্ধার অভিযান বন্ধ করে দেয় ফায়ার সার্ভিস। পরে রোববার সকাল থেকে আবারও উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার বিকেলে সিরাজদিখান উপজেলার লতাব্দি ইউনিয়নের নারী-শিশুসহ ৪৬ জন ট্রলারে করে পদ্মা নদীতে পিকনিকে যান। পরে পিকনিক শেষে ট্রলারটি উচ্চ শব্দে গান বাজাতে বাজাতে তালতলা-ডহুরী খাল দিয়ে লতব্দির দিকে যাচ্ছিল। এ সময় ট্রলারটি লৌহজংয়ের রসকাঠি এলাকায় পৌঁছালে বাল্কহেডটি ট্রলারকে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রলারটি পানিতে তলিয়ে যায়। ট্রলারের অধিকাংশ যাত্রী সাঁতরে উঠলেও ১৩ জন পানিতে তলিয়ে যান। তাদের মধ্যে আট জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। বাকিরা এখনও নিখোঁজ।
আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) সহকারী পরিচালক সাইদা তাপসী রাবেয়া লোপা জানান, রোববার সকাল থেকেই পদ্মা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযানে যোগ দিয়েছে নৌবাহিনীর ডুবুরি দল।
পরিদর্শক মাহবুবুর রহমান জানান, এ ঘটনার পর থেকেই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে উদ্ধার কাজ করছে। শনিবার রাত থেকে শুরু করে রোববার ভোর ৪টা পর্যন্ত একটানা উদ্ধার কাজ চালানো হয়। কিন্তু মাঝখানে দুই ঘণ্টা কাজ বন্ধ ছিল। পরে সকাল ৬টা থেকে আবারও কাজ শুরু করেছে।
আমাদেরকাগজ/এমটি