সারাদেশ ২৬ অক্টোবর, ২০২৫ ০৯:০৬

রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব সামনে রেখে তদন্তে পুলিশ

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে দুর্বৃত্তের ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছেন যুবদল নেতা মফিজুর রহমান মুকুল। শুক্রবার রাতে পৌর সদরের পদ্মপাড়ার বাড়ির সামনে তাঁর ওপর হামলা হয়। বর্তমানে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি। পুলিশ জানিয়েছে, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব সামনে রেখে তারা হামলার বিষয়টির তদন্ত করছে।

মফিজুর রহমান মুকুল নবীনগর উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক। উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন তিনি। দলীয় সূত্র জানায়, উপজেলার বিদ্যাকুট ইউনিয়ন ও শিবপুর ইউনিয়নের কয়েকটি জায়গায় শুক্রবার দলের রাজনৈতিক সমাবেশে যান তিনি। রাতে একাই নবীনগর সদর পদ্মপাড়ায় নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছলে পেছন থেকে আসা দুর্বৃত্তরা তাঁকে তিনটি গুলি করে পালিয়ে যায়।

তাঁর সঙ্গে ঢাকায় অবস্থান করছেন জেলা বিএনপির সদস্য হযরত আলী। গতকাল শনিবার বিকেলে তিনি সমকালকে বলেন, ‘মুকুল ভাইয়ের অবস্থা ভালো নয়। এভারকেয়ার হাসপাতালে তাঁর সিটিস্ক্যান করার পর ডাক্তার জানিয়েছেন, তিনটি গুলি তাঁর মূত্রথলি, কিডনি ও লাংসে ইফেক্ট করেছে।’

এলাকাবাসীর ভাষ্য, মফিজুর রহমান মুকুলের নিজস্ব কোনো ব্যবসা-বাণিজ্য নেই। পুরোপুরি রাজনীতিতে জড়িত তিনি। এলাকায় ব্যক্তিগতভাবে কারও সঙ্গে দ্বন্দ্বেও জড়াননি। ফলে ব্যক্তিগত শত্রু থাকার কথা নয়। দলের একটি সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত। হামলার পর মুকুল তাঁর স্ত্রীকে জানিয়েছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার তিনি। হত্যার উদ্দেশ্যেই গুলি করা হয়েছে। যদিও তাঁর পরিবারের কেউ এ বিষয়ে মন্তব্য করেননি।

নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমানের ভাষ্য, তাঁর শরীরের পেছনে তিনটি গুলি লেগেছে। পিঠের মাঝ বরাবর লেগেছে দুটি ও অপরটি লেগেছে নিতম্বে। আশঙ্কাজনক অবস্থা দেখে দ্রুত তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

নবীনগর থানার ওসি শাহিনুর ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল থেকে তিনটি গুলির খোসা উদ্ধার হয়েছে। মামলার প্রক্রিয়া চলছে। অপরাধী যেই হোক, তাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করবেন। রাজনৈতিক না, ব্যক্তিগত কী কারণে হামলা হয়েছে– এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, দুটি বিষয় সামনে রেখেই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ওই এলাকার সব সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

এদিকে মুকুলের ওপর হামলার ঘটনায় শনিবার বিকেলে নবীনগর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের উত্তর মার্কেটের উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে প্রতিবাদ সভা হয়। সেখানে উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মান্নান, জেলা কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইবরুল হাসান সবুজ, জেলা বিএনপি সদস্য মাসুদুর রহমান মাসুদসহ অন্যরা বক্তব্য দেন। 

এ ঘটনায় আরও নিন্দা জানান বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য তকদির হোসেন মোহাম্মদ জসিম, জেলা বিএনপির অর্থবিষয়ক সম্পাদক কাজী নাজমুল হোসেন তাপস, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কে এম মামুনুর রশিদ। এই নেতাদের দাবি, দলে রাজনৈতিক কোনো দ্বন্দ্ব নেই। মুকুলের সঙ্গে কারও কোনো দ্বন্দ্ব ছিল বলেও শোনেননি। হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনায় দাবি জানান তারা।