ডেস্ক রিপোর্ট।।
নোয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের পিয়ন আবুল কাশেমের ১ কোটি ১১ লাখ ৭০ হাজার ৫০০ টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সম্প্রতি তহশিলদার পদোন্নতি পেয়ে জাহাজমারা ভূমি অফিসে যোগ দেন তিনি।
১৪ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার তদন্ত শেষে মামলার আবেদন করে চট্টগ্রাম দুদকের বিভাগীয় কার্যালয়ে প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন নোয়াখালীরে দুদক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সুবেল আহমেদ।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে ৬০০ নথি বন্দোবস্তের কথা বলে ৪০ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাৎ ছাড়াও ঢাকায় নিজ নামে ফ্ল্যাট, স্ত্রীর নামে জমিসহ কোটি টাকার সম্পত্তির তথ্য পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। জেলার হাতিয়ার শূন্যেরচরের আবুল কাশেম ১৯৮৯ সালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে পিয়ন পদে চাকরি নেন। তহশিলদার পদোন্নতি পেয়ে জাহাজমারা ভূমি অফিসে যোগ দেন। চাকরিজীবনে বেতন-ভাতা ও বোনাস মিলিয়ে সর্বমোট ২২ লাখ ৭৭ হাজার ১৩ টাকা আয় করেন।
এ বছরের ৬ জানুয়ারি ঢাকার সেগুনবাগিচা কার্যালয় থেকে সম্পদের হিসাব চেয়ে আবুল কাশেম ও তার স্ত্রী কোহিনুর বেগমকে নোটিস দেয়া হয়। এরপর তিনি ১ কোটি ৫৭ লাখ ৭৪ হাজার ৭১৮ টাকার আর্থিক বিবরণী জমা দেন। এ হিসাব আবুল কাশেমের আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মনে করছেন দুদক কর্মকর্তারা।
এরপর দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে নিজ নামে ঢাকার তেজগাঁওয়ে ৭৭ লাখ টাকার ১১৩২ বর্গফুটের ফ্ল্যাট, কেরানীগঞ্জের বাড্ডায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা মূল্যের ৫ কাঠা জমি, স্ত্রী কোহিনুর বেগমের নামে হাতিয়ার জাহাজমারা মৌজায় ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকার ৪০ শতাংশ জমি, যার ওপর ৩০ লাখ টাকা খরচ করে বাড়ি তৈরি করা হয়েছে।
আবুল কাশেম ফ্ল্যাট কেনার কিস্তিবাবদ ঢাকার দি স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডকে সোনালী ব্যাংকের ঢাকা ও নোয়াখালীর বিভিন্ন শাখা থেকে মোট ৭৬ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। কিন্তু মাত্র এক বছরে এত টাকা আয়ের উৎস জানাতে পারেননি তিনি।
এ বিষয়ে আবুল কাশেমের কোনো মন্তব্য পাওয়া না গেলেও তার স্ত্রী কোহিনুর বেগম বলেন, ‘২০১৮ সাল থেকে আমার স্বামী মাছের ব্যবসা করে অর্থ উপার্জন করেছেন।’
দুদকের করা অভিযোগ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নথি সরবরাহের নামে যে টাকা নিয়েছেন, তার ভাগ উপর মহল পর্যন্ত পেয়েছে। তাহলে এখন সব দোষ তাকে (আবুল কাশেম) একা কেন নিতে হবে, প্রশ্ন রাখেন তিনি।’




















