ডেস্ক রিপোর্ট
পূর্ব চীনের শানডং প্রদেশের কাউন্টি লিন্সুর ডিটেনশন সেন্টারে আটকে রাখা হয়েছে ডিং জিয়াসি এবং জু জিয়ংকে। তাদের অপরাধ চীন সরকারের সমালোচনা।
লিয়াং জিয়াজুন, ঝাং লেই এবং পেং জিয়ান নামের ওই তিন আইনজীবী গণমাধ্যমকে বলেছেন, আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে মামলা নিয়ে আলোচনা না করার কথা বলা হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন তারা।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ডিং জিয়াসির স্ত্রী লুও শেংচুন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আটক দুজনের সঙ্গে দেখা করার জন্য তিনি এবং জু জিয়ংয়ের পরিবার তিনজন আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছেন। তারা আটক দুজনের সঙ্গে দেখা করার জন্য অনুমতি চেয়েছেন।
তাদের মামলাগুলো নিয়ে কাজ করছে এমন সূত্রের বারত দিয়ে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানিয়েছে, ৫৩ বছয় বয়সী ডিং জিয়াসি ও ৪৭ বছয় বয়সী জু জিয়ংয়ের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা উৎখাত’-এর অভিযোগ আনা হয়েছে। এ অভিযোগের বিচার করা হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক উ ইয়াংয়েই বলেন, প্রসিকিউটররা এই দুজনকে আরো বেশিদিনের সাজা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। মামলার ফাইল শ্রেণিবদ্ধ ঘোষণার অর্থ হলো অভিযুক্তদের পক্ষে যিনি কথা বলতে চান তার মুখ বন্ধ করা।
আটক দুজন ‘নিউ সিটিজেনস মুভমেন্ট’ নামের নাগরিক অধিকার গোষ্ঠীর সদস্য। এ গোষ্ঠীটি সংবিধান সংস্কার, শিশুদের শিক্ষার অধিকার এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রচারণাকে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়তা করেছিল। ২০১২ সালে ওই বিষয়গুলো নিয়ে প্রচারণা শুরু হয়।
ডিং জিয়াসি ছিলেন একজন আইনজীবী। ২০১৪ সালের দিকে তার আইনজীবীর লাইসেন্স বাতিল করা হয়। সরকারি দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভের আয়োজনের পরেই তিনি আইনজীবীর লাইসেন্স হারান।
জু জিয়ং ছিলেন দেশটির একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রভাষক। গ্রামীণ বাচ্চাদের শিক্ষার অধিকার নিয়ে প্রচারণা চালানোর কারণে তাকে আটক করা হয়। ২০১৩ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি কারাগারে ছিলেন। গত বছরের গোড়ার দিকে তিনি উহানের করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলা নিয়ে খোলামেলা সমালোচনা করেছিলেন।
সূত্র : সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট



















