আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
হঠাৎ করেই দুনিয়াজুড়ে পরিচিতি পেয়েছিলেন হোয়াইট হাউসের ইন্টার্ন মনিকা লিউনিস্কি। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিটনের কল্যাণেই তিনি পেয়েছিলেন সেই ব্যাপক পরিচিতি। সেই মনিকার সঙ্গে প্রেসিডেন্টের সেক্স স্ক্যান্ডাল প্রকাশও পেয়ে গিয়েছিলো। বহুদিন পর এসে ক্লিনটনের সঙ্গে সেই ঘটনার একটা ব্যাখ্যা দেন মনিকা।
মনিকা বলেন, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার সম্পর্কটা `ক্ষমতার অপব্যবহার` ছিল।

ওই সময় মনিকার চেয়ে ক্লিনটন ২৭ বছরের বড়। নারীদের ওপর যৌন হয়রানির প্রতিবাদে `মিটু মুভমেন্ট` হ্যাশটাগে যখন ভুক্তভোগীরা তাদের কথা তুলে ধরছেন, তখন তিনি ভ্যানিটি ফেয়ার ম্যাগাজিনে লিখা একটি নিবন্ধে বলেন, ওই কেলেঙ্কারির পর তিনি `পিটিএসডি` পরীক্ষা করিয়েছিলেন।
তাদের এই সম্পর্কের বিষয়টি ১৯৯৮ এবং ১৯৯৯ সালের মার্কিন সংবাদমাধ্যমের মূল উপজীব্য হয়ে উঠেছিলো। অবশেষে ক্লিনটন `আপত্তিকর দৈহিক অন্তরঙ্গ সম্পর্কের` দোষ ঘাড়ে নিয়ে বিদায় নেন। সঙ্গে মনিকাকেও ক্ষতিগ্রস্থ হতে হয় সামাজিক জীবন কাটাতে। সময়টা নিঃসন্দেহে তার জন্য খুব কঠিন ছিলো।
বর্তমানের ৪৪ বছর বয়সী মনিকা লিউনস্কি লিখেছেন, প্রেসিডেন্ট ক্লিনটনের সঙ্গে ওই গোপন প্রেমের সম্পর্ক যে সম্মতির ভিত্তিতে হয়েছিল, তা তিনি স্বীকার করেন। কিন্তু সে সময় দুজনের মধ্যে বয়স আর ক্ষমতার যে বিস্তর ব্যবধান ছিল, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। সেই সময় প্রেসিডেন্টের মতো একজন ক্ষমতাশালীর ক্ষমতার আবহে ছিলেন তিনি।

মনিকা বলেন, প্রেসিডেন্ট ছিলেন আমার বস। এই গ্রহের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তিটি আমার চেয়ে ২৭ বছরের বড় ছিলেন।
নারীরা এখন যেভাবে নিজেদের যৌন নিগ্রহের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রতিবাদী হচ্ছেন, তা নিয়েও ভ্যানিটি ফেয়ারের ওই নিবন্ধে লিখেছেন মনিকা। বলেন, এ বিষয়ে নারীরা অনেক সোচ্চার হচ্ছেন। তিনি বলেন, নিজের জীবন নিয়ে নতুন করে ভাবতে, নতুনভাবে দেখতে, সেই জীবন বদলে ফেলতে যে ক্ষমতা দরকার, তার ভাষায় সেই ক্ষমতা খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব একটি কাজ, বিশেষ করে তার জন্য, যাকে এমন নিগ্রহের শিকার হতে হয়েছে, যাতে সে ভাবতে বাধ্য হয় যে দোষ আসলে তারই।
মিটু মুভমেন্টের সময় সেখানকার নেতৃস্থানীয় একজন মনিকার সঙ্গে যোগাযোগ করলে মনিকা আবারও কেঁদেছেন। তিনি বুঝেছেন, ওই সময়গুলোতে মনিকা কতটা অসহায় ছিলেন।




















