আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও মানব সার্ভিস প্রশাসন প্রাণীর কোষ থেকে রসায়নাগারে তৈরি মাংস খাওয়ার অনুমোদন দিয়েছে। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বুধবার ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক কোম্পানি আপসাইড ফুডসকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পালিত মুরগীর কোষ থেকে এই মাংস উৎপাদন করা হয়েছে, যা মার্কিন কৃষি বিভাগও পরীক্ষা করে দেখেছে। জীবন্ত প্রাণীর কোষ ব্যবহার করে স্টিলের ট্যাংকে এই মাংস তৈরি করেছে কোম্পানিটি। তবে এটি তৈরি করতে কোনও প্রাণীকে জবাই করার প্রয়োজন হবে না।
এফডিএ বলেছে, এটি ল্যাব-উৎপাদিত মাংস বিক্রির অনুমোদন দিতে প্রস্তুত, তবে আরও সতর্কভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। সামুদ্রিক জীব থেকে খাবার তৈরি করতে চায় এমন সংস্থাগুলোও এর অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এফডিএ-এর কমিশনার রবার্ট ক্যালিফ বলেছেন, ‘বিশ্ব একটি খাদ্যবিপ্লবের সম্মুখীন হচ্ছে এবং মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন খাদ্য সরবরাহে এ ধরনের উদ্ভাবনকে সমর্থন করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিঙ্গাপুর বর্তমানে একমাত্র দেশ যেখানে ল্যাব-উৎপাদিত মাংস বৈধভাবে ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের এ অনুমোদন একটি নতুন খাদ্য পণ্য বাজারে সরবরাহ করতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিলো। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঐতিহ্যগতভাবে পশুপালন করার চেয়ে এটি আরও বেশি দক্ষ ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি।
খাদ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড সিন্থেসিস ক্যাপিটালের ম্যানেজিং পার্টনার কোস্তা ইয়ানোলিস ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেছেন, ‘আমরা সেই দিনটি দেখতে পাচ্ছি যেখানে সত্যিই খাদ্যব্যবস্থায় পরিবর্তন ঘটছে’। যুক্তরাষ্ট্রের এটি বড় এবং যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গুড ফুড ইনস্টিটিউটের তথ্যে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে ১৫০টিরও বেশি এ ধরনের কোম্পানি রয়েছে, যারা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে এ খাতে।
আমাদের কাগজ//টিএ




















