আন্তর্জাতিক ৬ ডিসেম্বর, ২০২২ ০১:৪৮

কঙ্গোতে বিদ্রোহীদের হামলায় ২৭২

ছবি:ইন্টারনেট

ছবি:ইন্টারনেট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:মধ্য আফ্রিকার দেশ ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) ২৭২ জন বেসামরিক ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়েছে। গত সপ্তাহে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় কিশিশে শহরে এ হত্যাকাণ্ড চালায় স্থানীয় একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী।

অবশ্য এর আগে দেশটির সরকার জানিয়েছিল, কিশিশে শহরে বিদ্রোহীদের হামলায় নিহত বেসামরিক মানুষের সংখ্যা ৫০। কিন্তু পরবর্তী সময়ে হত্যাকাণ্ডের হালনাগাদ তথ্যে সে সংখ্যা ২৭০ জনেরও বেশিতে দাঁড়িয়েছে। সোমবার (৫ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (৫ ডিসেম্বর) এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ডিআর কঙ্গোর শিল্পমন্ত্রী জুলিয়েন পালুকু বিদ্রোহীদের হামলায় নিহত বেসামরিক মানুষের নতুন সংখ্যা ঘোষণা করেন। এসময় তার সঙ্গে আফ্রিকার এই দেশটির সরকারের মুখপাত্র প্যাট্রিক মুয়ায়াও উপস্থিত ছিলেন। জাতিসংঘ মিশন টুইটারে লিখেছে, ‘আমরা এই ভয়ঙ্কর কর্মকাণ্ডের নিন্দা করছি এবং অবিলম্বে তদন্ত করে অপরাধীদের বিচারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানাচ্ছি।’

জাতিসংঘ এবং মার্কিন এক কূটনীতিকও গত সপ্তাহে বলেছিলেন, তাদের কাছে গত মঙ্গলবার উত্তর কিভু প্রদেশের কিশিশে শহরে বেসামরিক হত্যাকাণ্ডের তথ্য রয়েছে, তবে সেসময় বিস্তারিত কিছু জানাননি তারা। তারা দু’জনেই এ বিষয়ে তদন্তের আহ্বান জানান।

আল জাজিরা বলছে, বেসামরিক হত্যাকাণ্ডের এই ঘটনায় এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও তাদের সহযোগীদের অভিযুক্ত করেছে কঙ্গোর সরকার। তবে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এমনকি বেসামরিক লোকদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ বলেও দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।

জাতিসংঘ জানায়, তারা গত ২৯ নভেম্বর কিশিশে অঞ্চলে এম২৩ এবং স্থানীয় মিলিশিয়াদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় ব্যাপক বেসামরিক হতাহতের রিপোর্ট পেয়েছে। কিন্তু হতাহতের কোনো পরিসংখ্যান সংস্থাটি দেয়নি।ডিআর কঙ্গোতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন গত সপ্তাহে নৃশংসতার প্রতিবেদনের নিন্দা করে বলেছে, বেসাসরিক হত্যাকাণ্ডের এই ঘটনা সত্যি হলে তা ‘আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের অধীনে অপরাধী’ হতে পারে।

কঙ্গোর সেনাবাহিনী ও জাতিগত টুটসি গোষ্ঠীর নেতৃত্বাধীন মিলিশিয়া বাহিনী এম-২৩ মধ্য আফ্রিকার এ দেশটির পূর্বাঞ্চলে কয়েক মাস ধরে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এতে পুরো ওই এলাকা অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে।

গত সেপ্টেম্বরে এক প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ভয়েস অব আমেরিকা জানিয়েছিল, এম- ২৩ বিদ্রোহীরা বছরের পর বছর নিষ্ক্রিয় থাকার পর, ২০২১ সালের শেষের দিকে আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠে। তখন থেকেই তারা উগান্ডা সীমান্তের কৌশলগত শহর বুনাগানাসহ উত্তর কিভুজুড়ে বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নেয়।

 

আমাদের কাগজ// টিএ