আন্তর্জাতিক ৩১ জানুয়ারি, ২০২৩ ০৯:৪২

বাড়ল জ্বালানির দাম, তাও আবার লিটারে ৩৫ টাকা;দিশেহারা পাকিস্তান

ছবি - সংগৃহীত

ছবি - সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ একে রাজনৈতিক অস্থিরতা আবার রয়েছে মুদ্রাস্ফীতি এর মধ্যে পাকিস্তানে আরও এক দফা দাম বাড়ল জ্বালানি তেলের।ডলার পিছু পাকিস্তানি টাকার মূল্য আড়াই শ’ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে পেট্রল ও ডিজেলের দাম লিটারপিছু একধাক্কায় ৩৫ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে সরকার। এদিকে পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী ইশাক দার জানিয়েছেন, জ্বালানি এবং গ্যাস নিয়ামক সংস্থার সুপারিশ মেনেই দাম বাড়ানো হয়েছে। বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছে পাকিস্তানের অর্থনীতি। 

জানা যায়, দাম যে বাড়বে সেই আশঙ্কা আগেই করেছিলেন পাকিস্তানবাসী। তাই শনিবার (২৮ জানুয়ারি ২০২৩) থেকে পেট্রোল পাম্পের সামনে ছিলো দীর্ঘ লাইন।  সামাজিকমাধ্যমে নাগরিকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে জ্বালানির দাম বাড়বে। প্রতি লিটারে ৪০ থেকে ৮০ টাকা বাড়তে পারে দাম। সেই আশঙ্কা সত্যি করে প্রতি লিটারে ৩৫ টাকা দাম বাড়লো। 

এ প্রসঙ্গে দ্য নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে পাকিস্তানের রুপির রেকর্ড দরপতন হয়েছে। এতে করে গত বৃহস্পতিবার ডলারের বিপরীতে পাকিস্তানি এই মুদ্রার দর দাঁড়িয়েছে ২৫৫ রুপিতে। অর্থাৎ এক মার্কিন ডলার সমান ২৫৫.৪৩ পাকিস্তানি রুপি। আর এরপরই দক্ষিণ এশিয়ার পরমাণু শক্তিধর এই দেশটিতে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয়া হলো। 

ইতিমধ্যে পাকিস্তানে জ্বালানির ভান্ডারে টান পড়েছে। গুজরনওয়ালার মাত্র ২০ শতাংশ পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি রয়েছে। রহিম ইয়ার খান, বাহাওয়ালপুর, সিয়ালকোট, ফয়জলাবাদেও জ্বালানির অভাব দেখা দিয়েছে। যদিও জ্বালানির অভাবের বিষয়টি পাকিস্তানের শাহবাজ শরিফ সরকার এই অস্বীকার করেছে।
এখন দাম বৃদ্ধির পর অর্থমন্ত্রীর দাবি, দেশে জ্বালানির ঘাটতি রয়েছে বলে রটনা শুরু হয়। মানুষ তাই বেশি করে জ্বালানি কিনতে শুরু করেন। এই প্রবণতা রুখতেই জ্বালানির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ামক সংস্থা।

৩১ জানুয়ারি থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানে পরিস্থিতি দেখতে যাবেন আইএমএফ আধিকারিকরা। শাহবাজ শরিফ সরকারের আশা, তার পর ফের অনুদান দেবে আইএমএফ। ২০১৯ সালে পাকিস্তানকে ৬০০ কোটি ডলার অনুদান দিতে সম্মত হয় আইএমএফ। গত বছর বন্যার পর আরও ৭০০ কোটি টাকা অনুদানের কথা ঘোষণা করে। যদিও গত নভেম্বরে তা দেওয়া বন্ধ করে আইএমএফ। জানায়, পাকিস্তান সরকার রাজস্ব ঘাটতি মেটাতে ব্যর্থ হয়েছে।

সূত্র: আনন্দবাজার

আমাদের কাগজ/এমটি