আন্তর্জাতিক ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ০৩:৪১

সন্তান জন্মদানে অনীহা, জন্মহার বাড়াতে নতুন ঘোষণা চীনের

আমাদের কাগজ রিপোর্ট: জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে চীন সরকার এক সন্তান নীতি গ্রহণ করেছিল, যার প্রভাব পড়েছে চীনের জন্মহারে। ২০১৬ সালে চীন সরকার এই বিধিনিষেধ শিথিল করেছ, তার পরেও জনসংখ্যার বৃদ্ধি কাঙ্ক্ষিত হারে হচ্ছে না। ৬০ বছরের মধ্যে গত বছর প্রথমবারের মতো বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ চীনের জনসংখ্যা কমেছিল বলে জানুয়ারিতে জানিয়েছিল চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো।

এমন পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে দেশটি জন্মহার বৃদ্ধিতে নানা ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। কিন্তু আশানুরূপ কোনো ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না। সবশেষ শুক্রবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দেশটির স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা সন্তান লালন-পালনের ব্যয় কমানোর জন্য সরকারকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

১৪০ কোটি জনসংখ্যার দেশ চীনে বর্তমান জন্মহার রেকর্ড পরিমাণ কম। আর কারণে দিনে দিনে কমছে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, জন্মহার কমের বিষয়টি চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে কোণঠাসা করে দিতে পারে।

চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সাল শেষে দেশটির মোট জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪১ কোটি ১৭ লাখ ৫০ হাজারে। যা ২০২১ সালের তুলনায় লাখ ৫০ হাজার কম। ২০২২ সালে দেশটিতে জন্ম নিয়েছে ৯০ লাখ ৫৬ হাজর শিশু। আর একই সময় মারা গেছেন কোটি ৪১ হাজার মানুষ।

সর্বশেষ চীনের জনসংখ্যা কমেছিল ১৯৬০ সালে। ওই বছর মাও সে তুংয়ের বিপর্যয়কর কৃষি নীতি গ্রেট লিপ ফরওয়ার্ডের কারণে দুর্ভিক্ষের কবলে পড়েছিল দেশটির মানুষ।

শুক্রবার দেশটির রাষ্ট্রয়ত্ত সংবাদমাধ্যম এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চীনের ন্যাশনাল হেলথ কমিশনের অধীনে জনসংখ্যা মনিটরিং ফ্যামিলি ডেভেলপমেন্ট বিভাগের পরিচালক ইয়াং ওয়েনঝুয়াং প্রজনন হারের উন্নতিতে পারিবারিক সহায়তা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

ইয়াং ওয়েনঝুয়াং বলেছেন, নারীদের মধ্যে অর্থনৈতিক জীবনে উন্নয়ন সাধনের স্পৃহা জন্মহার কমানোর প্রধান কারণ। জনসংখ্যার দীর্ঘমেয়াদী ভারসাম্য তৈরিতে স্থানীয় সরকারগুলোকে এসব বিষয়ে সক্রিয়ভাবে ভাবতে হবে। শিশুর জন্ম, শিশুর যত্ন শিক্ষার খরচ কমাতে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং নারীদের উৎসাহ দিতে হবে।

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলমান জন্মহার যদি না পাল্টায় তাহলে চীনের জনসংখ্যা ২০৫০ সাল নাগাদ ১০৯ মিলিয়ন কমবে। যা ২০১৯ সালের আগের পূর্বাভাসের চেয়ে তিনগুণ বেশি।

এর আগে দেশটির বেশ কয়েকটি প্রদেশ জন্মহার বাড়াতে বৈবাহিক সম্পর্কের বিষয়টিকে শিথিল করেছিল। এছাড়া শুক্রানু ব্যাংক সমৃদ্ধ করতে আরও কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

১৯৬০ সালের পর দেশটিতে জনসংখ্যা বাড়া শুরু করে। কিন্তু অধিক জনসংখ্যার ভয়ে ১৯৮০ সালে চীন বিতর্কিত এক শিশু নীতি গ্রহণ করে। যার কারণে জনসংখ্যা অনেক বেশি হ্রাস পায়। ভুল উপলব্ধি করতে পেরে ২০১৬ সালে এই নীতি পরিহার করে দেশটি। বর্তমানে অঞ্চলভেদে চীনে কোনো দম্পতি চাইলে তিন ছেলে-মেয়েও নিতে পারবেন। তবে বিষটি জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে খুব বেশি প্রভাব রাখতে পারেনি।

জীবনমানের খরচ বৃদ্ধি, বেশিরভাগ নারীর কর্মক্ষেত্রে যাওয়া এবং উচ্চ শিক্ষার প্রতি ঝোঁক থাকার বিষয়গুলো জনসংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি ধীর করে দিয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া ইউনিভার্সিটি অব ভিক্টোরিয়ার প্রফেসর শিউজান পেং বলেছেন, কয়েক দশক পুরোনো নীতির কারণে চীনের সাধারণ মানুষ ছোটো পরিবারের সঙ্গেই বেশি মানানসই হয়ে গেছেন। জন্মহার বৃদ্ধিতে চীনা সরকারকে কার্যকরী নীতি গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে জনসংখ্যা ক্রমশ কমতেই থাকবে।

 

 

 

আমাদের কাগজ/টিআর