আমাদের কাগজ ডেস্কঃ তুরস্ক ও সিরিয়ায় স্মরণকালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে একে একে উদ্ধার হচ্ছে মরদেহ। বাড়ছে লাশের সারি।ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এখনও অনেককে জীবিত উদ্ধার করা হচ্ছে। তুরস্ক ও সিরিয়ায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩ হাজার ৭২৬ জন ছাড়িয়েছে। তুরস্কে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৩১৮ জনে। দেশটিতে আহত হয়েছে ৮০ হাজার ৫২ জন। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার বরাত দিয়ে সিএনএন এ তথ্য জানায়।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর সিরিয়ায় ৫৩ লাখের মতো মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। এ ছাড়া দুই দেশে ৯ লাখ মানুষের জরুরি গরম খাবার প্রয়োজন। এই ঘটনায় ৮ লাখ ৭৪ হাজার মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তুরস্কে এখনো বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে উদ্ধারকর্মীরা প্রাণপণ প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।
আর সিরিয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা কমপক্ষে তিন হাজার ৫০০ জন। সিরিয়াজুড়ে আহতের সংখ্যা পাঁচ হাজার ২৪৫ জন বলে জানা গেছে।
গত সোমবার তুরস্ক ও সিরিয়া সীমান্তে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এরপর কমপক্ষে শতাধিকবার আফটার শক অনুভূত হয়, যার একটি ছিল ৭ দশমিক ৫ মাত্রার
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এরকম ধ্বংসস্তূপের নিচে একজন মানুষ ঠিক কতক্ষণ বেঁচে থাকতে পারে?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা নির্ভর করে বেশ কয়েকটি বিষয়ের ওপর।
ভবনটি যখন ধসে পড়ে তখন তার অবস্থান কোথায় ছিল, তিনি যেখানে চাপা পড়ে আছেন সেখানে বাতাস ও পানি আছে কি না, সেখানকার জলবায়ু, আবহাওয়ার অবস্থা এবং ওই ব্যক্তির শারীরিক সক্ষমতা এসবের ওপরেই নির্ভর করে ওই ব্যক্তি কতক্ষণ সেখানে বেঁচে থাকতে পারবেন
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি প্রচুর রক্তক্ষরণ হয় তাহলে ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। কেউ যদি গুরুতরভাবে জখম না হয় এবং সেখানে নিঃশ্বাস গ্রহণের জন্য বাতাস থাকে তাহলে তাকে এরপরেই যেটা চেষ্টা করতে হবে তা হলো তার শরীরে যাতে যথেষ্ট পানি থাকে।
ভূমিকম্প কখন হবে অথবা একটি ভবন কখন হঠাৎ করে ধসে পড়বে সেটা আগে থেকে অনুমান করা সহজ নয়। কিন্তু তারপরও এরকম জরুরি পরিস্থিতিতে আপনি কোন জায়গায় অবস্থান নিবেন বেঁচে থাকার জন্য সেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
একটি ভাল জায়গা বেছে নিয়ে সেখানে অবস্থান করতে পারলে শারীরিকভাবে যেমন নিরাপদ থাকা যাবে তেমনি সেখানে পর্যাপ্ত পরিমাণে আলো বাতাসও থাকতে পারে। এই কৌশলকে বলা হয় ‘ড্রপ, কভার এন্ড হোল্ড’। যেখানে বাতাস আসতে পারে সেরকম একটি জায়গায় আশ্রয় নিলে সেটি হবে বেঁচে থাকার জন্য উপযোগী পরিবেশ, বলেন তুরস্কে একটি উদ্ধারকারী সমিতির সমন্বয়কারী মুরাত হারুন অনগোরেন।
‘ড্রপ, কভার এন্ড হোল্ড’ কথাটির অর্থ হচ্ছে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ুন, টেবিল অথবা এরকম কোনো জিনিসের নিচে আশ্রয় নিন এবং ভূমিকম্প না থামা পর্যন্ত কিছু একটা শক্ত করে ধরে রাখুন। কিন্তু জরুরি পরিস্থিতিতে কী করতে হবে সে বিষয়ে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা খুব গুরুত্বপূর্ণ যা প্রায়শই উপেক্ষা করা হয় বলে বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
আমাদের কাগজ/এমটি


















