আন্তর্জাতিক ১২ অক্টোবর, ২০১৯ ০৫:০৬

যে যাই বলুক না কেন, তুরষ্ক সামরিক অভিযান বন্ধ করবে না: এরদোগান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।

সিরিয়ার উত্তরের কুর্দি অধ্যুষিত অঞ্চলে যেকোন ধরনের বহিঃআক্রমণ চালানো থেকে বিরত থাকার জন্য তুরস্কের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে উত্তর আটলান্টিক দেশগুলোর সামরিক জোট ন্যাটো। সংবাদমাধ্যম ভয়েস অব আমেরিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার (১১ অক্টোবর) তুরস্কে এক সংবাদ সম্মেলনে ন্যাটোর মহাসচিব ইয়েন্স স্টোলটেনবার্গ এই আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই বহিঃআক্রমণের ফলে সেখানে ‘সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী’র পুনরায় উত্থান হতে পারে।

৭ অক্টোবর সিরিয়ায় আইএসবিরোধী অভিযান চালানোর ঘোষণা দেয় তুরস্ক। পরে ৯ অক্টোবরর সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে ‘পিস স্প্রিং অপারেশন’ শুরু করে আঙ্কারা। অভিযানের অংশ হিসেবে তুরস্ক সমর্থিত সিরিয়ান ন্যাশনাল আর্মি ইউফ্রেটিস নদীর পূর্ব দিকে প্রবেশ করে। তুর্কি অভিযানে সহযোগিতার জন্য তারা অগ্রসর হচ্ছে। পরে কুর্দি নিয়ন্ত্রিত সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় অভিযানে বিমান হামলা ও স্থল অভিযান জোরালো করে তুরস্ক।  এতে তিন শতাধিক ‘জঙ্গি’ নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে আঙ্কারা। মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, এ অভিযানে ১১ বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তাদের। দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এতে এক তুর্কি সেনা নিহত হয়েছে। সেনারা বেশ কিছু লক্ষ্যবস্তু দখল করেছে। এছাড়া সীমান্তের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে তুমুল লড়াই চলছে।

তুরস্কের ইস্তানবুলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলু ক্যাভুসোগলুর সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে স্টোলটেনবার্গ বলেন, “নিরাপত্তা বিষয়ে সিরিয়ার কুর্দিদের নিয়ে তুরস্কের উদ্বেগ থাকাটা বাস্তবসম্মত। তবুও আইএস’সহ ওই অঞ্চলের সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পুর্বের অভিযানে যে অগ্রগতি সাধিত হয়েছে তা এই আক্রমণের ফলে ‘বিপর্যস্ত’ হতে পারে।”

অন্যদিকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন,  ‘তুরস্ক যে হুমকির মুখোমুখি হচ্ছে তার বিরুদ্ধে ন্যাটোর কাছ থেকে পারস্পরিক সহযোগিতা‌ ও সংহতি আশা করে আঙ্কারা।’ এর আগে শুক্রবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বলেন, ‘যে যাই বলুক না কেন, আমরা কোনও অবস্থাতে এটা (সামরিক অভিযান) বন্ধ করবো না।’

সিরিয়ায় শরণার্থী সংকট ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সমন্বয় কার্যালয় (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, তুরস্কের অভিযানের ফলে সেখান থেকে লক্ষাধিক বেসামরিক মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। তবে সহায়তাকারী সংস্থাগুলো বলেছে, এ সংখ্যা সাড়ে চার লাখের অধিক হবে। এদের অধিকাংশই তাল আবিয়াদ থেকে পালিয়েছে। যারা এখন মৃত্যু ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।