আন্তর্জাতিক ৮ মে, ২০২৬ ০১:৫৭

কেরালায় কংগ্রেসের জয়জয়কার, মুখ্যমন্ত্রীর লড়াইয়ে তিন হেভিওয়েট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
কেরালার বিধানসভা নির্বাচনে বামপন্থীদের হারিয়ে বিশাল ব্যবধানে ক্ষমতায় ফিরেছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ)। রাজ্যের ১৪০টি আসনের মধ্যে ১০২টিতে জয় পেয়েছে তারা। এর মধ্যে কংগ্রেস এককভাবে জিতেছে রেকর্ড ৬৩টি আসনে। ২০২১ সালে ৯৯ আসন পাওয়া এলডিএফ এবার মাত্র ৩৫টি আসনে গুটিয়ে গেছে।

তবে এই জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই এখন সবার নজর কেরালার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হচ্ছেন, সেই লড়াইয়ের দিকে। এই দৌড়ে রয়েছেন কংগ্রেসের তিন জ্যেষ্ঠ নেতা: বিরোধী দলীয় নেতা ভি. ডি. সাতিসান, সাবেক বিরোধী দলীয় নেতা রমেশ চেন্নিথালা এবং এআইসিসি সাধারণ সম্পাদক ও আলাপুঝার সংসদ সদস্য কে. সি. ভেনুগোপাল।


সাতিসানের পক্ষে জনজোয়ার

তৃণমূল পর্যায়ে সাতিসানকেই সবচেয়ে জনপ্রিয় মনে করা হচ্ছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিরুবনন্তপুরম থেকে বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে এরনাকুলাম জংশন স্টেশনে পৌঁছালে হাজার হাজার কর্মী তাকে ‘মুখ্যমন্ত্রী সাতিসান’ স্লোগান দিয়ে বরণ করে নেন। ২০১৬ এবং ২০২১ সালের হারের পর কংগ্রেসকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তোলার কৃতিত্ব দেওয়া হচ্ছে তাকেই। তার নেতৃত্বেই ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ২০টির মধ্যে ১৮টি আসনে জয় পায় ইউডিএফ।

ভেনুগোপালের শক্ত অবস্থান

অন্যদিকে কে. সি. ভেনুগোপালও অত্যন্ত শক্তিশালী দাবিদার। এআইসিসি সাধারণ সম্পাদক হিসেবে হাই কমান্ডের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা এবং ৪০ জনের বেশি বিধায়কের সমর্থন তাকে এগিয়ে রাখছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সানি জোসেফ জানিয়েছেন, বিধায়কদের মধ্যে ভেনুগোপালের সমর্থন সবচেয়ে বেশি। তবে মুখ্যমন্ত্রী হতে হলে তাকে লোকসভার সদস্যপদ ছেড়ে বিধানসভায় নির্বাচিত হয়ে আসতে হবে।

দলীয় সূত্রগুলোর মতে, বিভিন্ন আসনে প্রার্থী বাছাইয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন ভেনুগোপাল। দলের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ নিয়ন্ত্রণেও তিনি কার্যকর ছিলেন বলে মনে করা হয়। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তার অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।

রাজ্যজুড়ে পোস্টার যুদ্ধ

মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার এই লড়াই এখন প্রকাশ্য কোন্দলে রূপ নিয়েছে। তিরুবনন্তপুরমসহ রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে ভেনুগোপালকে ‘বিজয়ের স্থপতি’ উল্লেখ করে পোস্টার লাগানো হলেও কোট্টায়ামে সেই সব পোস্টারে কালি লেপন করা হয়েছে। 

কেরালাজুড়ে পোস্টারযুদ্ধও শুরু হয়েছে। কান্নুরের ইরিক্কুরে কংগ্রেস বিধায়ক ম্যাথিউ কুঝালনাদানের বিরুদ্ধে পোস্টার দেখা গেছে। তিনি বলেছিলেন, কংগ্রেস ও ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ (আইইউএমএল) ঐতিহ্যগতভাবে একে অপরের নেতৃত্ব নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করে না। একইসঙ্গে তিনি আইইউএমএলকে ইউডিএফের ‘মেরুদণ্ড’ বলেও উল্লেখ করেছিলেন।

নির্লিপ্ত মুসলিম লীগ

ইউডিএফ-এর অন্যতম প্রধান শরিক ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ (আইইউএমএল) এবার ২২টি আসনে জিতেছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের বিষয়ে তারা সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। দলটি জানিয়েছে, এটি সম্পূর্ণ কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তারাই নেবে।

দলীয় কর্মীদের একাংশের সমর্থনে সতীশন এগিয়ে থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বই নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, ভেনুগোপালের জাতীয় পর্যায়ের অবস্থান ও দিল্লির নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তাকে এখনও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ধরে রেখেছে।

সূত্র: আউটলুক ইন্ডিয়া