আন্তর্জাতিক ৩ আগস্ট, ২০২৬ ১০:১৫

ট্রাম্পের সবশেষ ঘোষণার পর গাজায় একদিনে সর্বোচ্চ নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিধ্বস্ত গাজায় শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। তার এ ঘোষণার মধ্যেই গাজায় নিহতের সংখ্যা গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নতুন রেকর্ড গড়েছে। উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। রোববার (২ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আল-শিফা হাসপাতালের চিকিৎসাসংক্রান্ত সূত্র জানিয়েছে, রোববার নিহতদের মধ্যে পশ্চিম গাজার আল-সুসি টাওয়ারের একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টে বিমান হামলায় নিহত তিনজনও রয়েছেন। তারা হলেন ৩৩ বছর বয়সী আবদুল্লাহ আবু তাইফ, তার ২৯ বছর বয়সী অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আবির আনান এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে আজ্জাম। খান ইউনিস শহরের উত্তর-পশ্চিমে আল-কারারার একটি অ্যাপার্টমেন্টেও হামলা হয়েছে। এ ঘটনায় আল-হামস পরিবারের তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। তারা হলেন মাহমুদ (৩৮), তার স্ত্রী ফাতিমা (৩৭) এবং তাদের ছোট মেয়ে। নাসের হাসপাতালের চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে, এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহর কাছে নিজ বাড়িতে এক হামলায় ৬৮ বছর বয়সী কামু আবু মুয়াইলিক ও তার ৫৯ বছর বয়সী স্ত্রী হুদা নিহত হয়েছেন। একই এলাকায় মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় দুই ভাইও নিহত হয়েছেন। উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরেও হামলা হয়েছে। এতে এক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এছাড়া গাজা শহরের পশ্চিমে রেমাল মহল্লায় বাস্তুচ্যুতদের একটি তাঁবুতে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় একজন শিশুসহ দুই ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজায় একটি গাড়িতে হামলায় আরও চারজন নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভোর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষ নিহত হয়েছেন। শনিবার দেইর আল-বালাহতে অবস্থিত আল-আকসা শহীদ হাসপাতালের সংলগ্ন ওষুধের গুদামগুলোতেও হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বুর্শ বলেছেন, সরবরাহব্যবস্থা ধ্বংস করে ‘ওষুধ এবং অসুস্থতাকেই যুদ্ধের হাতিয়ারে পরিণত করছে ইসরায়েল’। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলের হামলায় দুটি স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে এবং আরও দুটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর আগে শুক্রবার বোর্ড অব পিস এবং ইন্টারন্যাশনাল স্টাবিলাইজেশন ফোর্স এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গাজায় ‘যুদ্ধবিরতির’ পরবর্তী পর্যায় বাস্তবায়নের জন্য একটি চুক্তির ঘোষণা দেন। তার এ ঘোষণার পরই এ ঘটনা ঘটল। বোর্ড জানিয়েছে, হামাস একটি বিস্তারিত রূপরেখা গ্রহণ করেছে। তবে এ প্রস্তাবের বিষয়ে ইসরায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাতার, মিশর ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ২০২৫ সালের অক্টোবরে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতির পর থেকে অন্তত ১ হাজার ২২২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ সময় আরও অন্তত ৪ হাজার ৫৩ জন আহত হয়েছেন। সূত্র: আল জাজিরা