আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
দিল্লির বায়ু দূষণ নিয়ে চিন্তিত গোটা ভারতবাসী। এমনকি জার্মান চ্যান্সেলর ভারত সফরে এসেও দিল্লির অবস্থা দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এই পরিস্থিতিতে দূষণ দূর করার ‘সহজ উপায়’ বাতলেছেন উত্তরপ্রদেশের বিজেপি মন্ত্রী সুনীল ভারালা।
তিনি বলেছেন, নাড়া পোড়ানোর ফলে দূষণ হচ্ছে। অথচ বহু বছর ধরে চাষিরা এভাবেই নাড়া পুড়িয়ে আসছেন। এটাই প্রথা। এ নিয়ে প্রশ্ন তোলা ঠিক নয়। তার পরিবর্তে সরকারের উচিত ইন্দ্রদেবকে তুষ্ট করার জন্য যজ্ঞ করা। তিনিই সব কিছু ঠিক করে দেবেন।
তার মতে, ভগবান ইন্দ্রের উপাসনা করে যজ্ঞ করলেই বৃষ্টি হবে। আর বৃষ্টি হলেই কাটবে দূষণ।
সোমবার সকাল থেকেই ঘন ধোঁয়াশা ছিল দিল্লিতে। রাজধানীজুড়ে রাস্তায় গাড়ি-ঘোড়া কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। এদিন বাতাসে দূষিত কণা পিএম-২.৫-র মাত্রা ছিল সাধারণের তুলনায় ২০ গুণ বেশি। এদিন থেকে ফের গাড়ি চলাচলে জোড়-বিজোড় প্রক্রিয়া চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেজরিওয়াল সরকার। কিন্তু তাতেও সমস্যা মিটবে বলে মনে হচ্ছে না।
কারণ দিল্লির দূষণের দুই প্রধান কারণের একটি হচ্ছে, পাঞ্জাব ও হরিয়ানার কৃষকদের এই খড় পোড়ানো। আরেকটি যানবাহনের ধোঁয়া। প্রায় ১৫ লাখ গাড়ি চলে প্রতিদিন।
বিশেষজ্ঞদের সাফ কথা, খড় পোড়ানো বন্ধ করতে হবে। কিন্তু দূষণ নিয়ে সচেতনতার মধ্যেও রোববার পাঞ্জাবজুড়ে ২৮৫৬টি ক্ষেতে নাড়া পোড়ানোর ঘটনা ঘটেছে। সাংরুর, পাতিয়ালা, ফিরোজপুর, ফরিদকোট, বাথিন্দা থেকে সবচেয়ে বেশি ক্ষেত পোড়ানোর ঘটনা পাওয়া গেছে।
দিল্লি ও পার্শ্ববর্তী গুরুগ্রাম এবং নয়ডার অধিবাসীদের অভিযোগ, বৃষ্টিতেও লাভের লাভ কিছুই হচ্ছে না। শ্বাস নিতে যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে। চোখ-মুখ জ্বালা করছে। পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় চাষিরা খড় পোড়ানো বন্ধ করেননি। নাড়ার সেই ধোঁয়া উড়ে আসছে দিল্লিতে। এতেই সৃষ্টি বিষাক্ত ধোঁয়াশা।
এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, যারা খড় পোড়াবে তাদের জরিমানা দিতে হবে। আইনি ব্যবস্থাও নেয়া হবে। তাতেও খড় পোড়ানো বন্ধ হয়নি। বরং একে সমর্থন করছেন কিছু রাজনীতিক।




















