আন্তর্জাতিক ১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০৯:৩৪

কাশ্মীরে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন ১০০ দিন, প্রতিবাদ সাংবাদিকদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।। 

ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়ার ১০০ দিন পার করলো কাশ্মীরবাসী। এ ঘটনায় ল্যাপটপ হাতে প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাংবাদিকরা। ৫ আগস্ট ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের পর থেকে মূলত কারফিউ আর সেনা টহলে বন্দুকের মুখে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে কাশ্মীরকে। বিচ্ছিন্ন আছে ইন্টারনেট সংযোগ। ফলে শুধু সাধারন নাগরিকরাই নয় গণমাধ্যম কর্মীরাও তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিপাকে পরছেন।

৪ আগস্ট রাত থেকে কাশ্মীরের ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়। এরপর ৫ আগস্ট ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মাধ্যমে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয়। স্থানীয়রা যাতে প্রতিবাদ জানাতে না পারে সে কারণে কারফিউজারীসহ বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। এরপর থেকে এক রকম যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ও অবরুদ্ধ দিন যাপন করছে কাশ্মীরবাসী।

ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখার ১০০ দিন উপলক্ষে বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে ইন্টারনেট সংযোগ ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানান। সিনিয়র সাংবাদিক পারভেজ বুখারী ভারতের গণমাধ্যম দ্য হিন্দুকে বলেন, ‘১০০ দিন হলো এখানে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। আমরা এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সাংবাদিকতার একটি মৌলিক বিষয় হচ্ছে ইন্টারনেট। আমাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য ইন্টারনেট সংযোগ প্রতিস্থাপনের দাবি জানাচ্ছি।’

৩৭০ ধারা বাতিলের পর এখন কারফিউ উঠলেও অঘোষিত ‘হরতাল’ চলছে। সকালে দোকান খুললেও বেলা ১১টার ভেতর বন্ধ হয়ে যায়। শ্রীনগরের নাম করা রেস্তরাঁ সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিচ্ছে, সকাল ৭টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত দোকান খোলা থাকবে। স্কুল খুলেছে। কিন্তু বাবা-মায়েরা ছেলেমেয়েদের পাঠাচ্ছেন না। সন্ধ্যার পর পুরো শহর যেন গোরস্থান। উপত্যকার সব শহরেই এক ছবি।

যদিও মোদি সরকার দাবি করছে কাশ্মীরের পরিস্থিতি এখন শান্ত। এই প্রসঙ্গে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের গণমাধ্যম আনন্দবাজারকে পোলো ভিউ মার্কেটের বৃদ্ধ কার্পেট ব্যবসায়ী বলেন, ‘সব স্বাভাবিক হলে তিন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বন্দি কেন? কেন কাজিগুন্দ থেকে বারামুলা ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল এত দিন? রাজ্য পরিবহণের বাস রাস্তায় নামছে না কেন? হরতাল তো সরকার করছে!’