আন্তর্জাতিক ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০৩:১৫

পানি বণ্টন ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশ-ভারত বৈঠক

করোনা মহামারির কারণে প্রথমবারের মতো ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত জেসিসির বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এবং ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেন সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

তিস্তাসহ অভিন্ন নদীগুলোর পানি বণ্টনের ইস্যু সুরাহা করার জন্য ভারতকে আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। ভারতও বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আগ্রহ দেখিয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ পরামর্শক কমিটির (জেসিসি) সভা শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশে ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগামী ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠকটি ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে হবে বলে বৈঠকে চূড়ান্ত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বৈঠকে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ও সীমান্ত হত্যার বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের দৃঢ় বন্ধুত্বের মধ্যেও সীমান্ত হত্যা কিংবা পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের মতো বিষয়গুলো প্রভাব ফেলে।

বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন বলেন, তিস্তাসহ দুই দেশের মধ্যে প্রবাহিত অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন নিয়ে দু'পক্ষ আলোচনা করেছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেতে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়টিতে জোর দেওয়া হয়। আলোচনায় তিস্তা চুক্তি নিয়ে দু'পক্ষই সম্মত হয়েছে। বাকি আরও ছয়টি নদীর মীমাংসা নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং ভারতীয় পক্ষ এ বিষয়ে যথেষ্ট আগ্রহ দেখিয়েছে।

২০১০ সালে শেষবারের মতো যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক হওয়ার কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিস্তা চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে দুই দেশ সম্মত। কিন্তু কবে এই চুক্তি, সেটি এখন পর্যন্ত বলা যাচ্ছে না।

সীমান্ত হত্যা বিষয়ে আলোচনা সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। কারণ সীমান্ত হত্যার ঘটনা দেশের জন্য যেমন লজ্জার, তেমনি ভারতের জন্যও লজ্জার। আলোচনায় উভয়পক্ষ একমত যে, সীমান্তে আর কেউ যাতে না মারা যায়।

যেসব অঞ্চলে মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে, সেখানে যৌথভাবে তদারকি করা হবে। দুই দেশই একমত যে, সীমান্তে হত্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা হবে এবং এক্ষেত্রে দুই দেশেরই যে দায়িত্ব আছে, তা পালন করা হবে।

পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ সম্পর্কে ড. মোমেন বলেন, হঠাৎ করে ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের বিষয়টিও আলোচনা হয়েছে। ভারতের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে, যেন রপ্তানি বন্ধের মতো সিদ্ধান্ত আগে থেকেই জানানো হয়। কারণ ভারত নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের রপ্তানি হঠাৎ করে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিলে বাংলাদেশের বাজারে এর বিরূপ প্রভাব পড়ে।

 তিনি আরও বলেন, দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বের দৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু সীমান্তে কেউ মারা গেলে এবং পেঁয়াজের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য বন্ধের হঠাৎ সিদ্ধান্ত এলে তা দুই দেশের সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলে।

দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে বৈঠক সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে আগামী ডিসেম্বরে ভার্চুয়াল বৈঠক হবে। এ ব্যাপারে দু'পক্ষই সম্মত হয়েছে। দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে বৈঠকে কী আলোচনা হবে, সেটি এখনও ঠিক হয়নি। হাতে সময় আছে, এখন থেকেই দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের ব্যাপারে প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

ভারতের লাইন অব ক্রেডিট প্রকল্প নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, আলোচনায় লাইন অব ক্রেডিট বড় ইস্যু ছিল। লাইন অব ক্রেডিটের বিষয়টি ধীরগতিতে হওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আছে এবং এ বিষয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি হয়েছে। কমিটিতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব এবং ভারতের রাষ্ট্রদূত এই কমিটিতে আছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিষয়ে ভারতের আইনি বাধার বিষয়টি বাংলাদেশ তুলেছে এবং তারা বলেছে, এটি পুনর্বিবেচনা করা হবে।

করোনা মোকাবিলায় যৌথ সহযোগিতার বিষয়টিও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারতের টিকা সংগ্রহ এবং বাংলাদেশে উৎপাদন করা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, টিকাসংক্রান্ত বিষয় আগামী নভেম্বর মাসে দুই দেশের কনস্যুলার পর্যায়ের বৈঠকে আলোচনা করা হবে।