বিনোদন ২২ ডিসেম্বর, ২০২০ ০১:৫১

২০২০ সালে হারিয়েছি যাঁদের

বিনোদন ডেস্ক

২০২০ সালে হারানোর তালিকাটা বেশ দীর্ঘ। বছর আমরা অসংখ্য তারকাকে হারিয়েছি। বিনোদন জগতের আকাশ থেকে ঝরে গেছে অনেক চেনা মুখ

চলতি বছর আমাদের মাঝ থেকে বিদায় নিয়েছেন বেদের মেয়ে জোছনাখ্যাত প্রযোজক, পরিচালক মতিউর রহমান পানু , নায়িকা জবা, ঢালিউডের আলোচিত ব্যবসা সফল ছবি গ্যাং লিডার- এর অভিনেতা রানা হামিদ, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী সুরকার, সংগীত পরিচালক কণ্ঠশিল্পী আজাদ রহমান, দেশের প্লেব্যাক সম্রাটখ্যাত জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী এন্ড্রু কিশোর, বরেণ্য সংগীতব্যক্তিত্ব আলাউদ্দীন আলী, অভিনেত্রী মিনু মমতাজ, অভিনেতা কে এস ফিরোজ, অভিনেতা সাদেক বাচ্চু, অভিনেতা, নির্দেশক আলী যাকের, অভিনেত্রী, নির্দেশক আবৃত্তিশিল্পী ইশরাত নিশাত, জনপ্রিয় সুরকার সেলিম আশরাফ, টেলিভিশন নৃত্যশিল্পী সংস্থার সাবেক সভাপতি, দেশের সুপরিচিত নৃত্যশিল্পী এবং নৃত্য পরিচালক হাসান ইমাম, চলচ্চিত্র প্রযোজক জনাব মোজাম্মেল হক সরকার, সহস্রাধিক সিনেমার নৃত্য পরিচালক এস আলম, অনুষ্ঠান পরিকল্পনাকারী, নাট্যশিল্পী স্বপন সিদ্দিকী, চিত্রপরিচালক আফতাব খান টুলু , বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরীফউদ্দীন খান দীপু , চলচ্চিত্র প্রযোজক বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের সাবেক সদস্য নাসির উদ্দিন দিলু, দেশের ঐতিহ্যবাহী বৃহৎ অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সংগীতার স্বত্বাধিকারী সেলিম খান, বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত চিত্রসম্পাদক আমিনুল ইসলাম মিন্টুসহ আরও অনেকেই।  

চলতি বছরেই না ফেরার দেশে চলে গেলেন দেশের প্লেব্যাক সম্রাটখ্যাত জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী এন্ড্রু কিশোর। জুলাই সন্ধ্যা ৭টা ১৩ মিনিটের দিকে রাজশাহী মহানগরীর মহিষবাথান এলাকায় তার বোন ডা. শিখা বিশ্বাসের বাড়িতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিলো ৬৫ বছর দীর্ঘদিন ধরে ব্লাড ক্যান্সারে ভুগছিলেন আটবার চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই বরেন্য শিল্পী ১৯৭৭ সালে এন্ড্রু কিশোর আলম খানের সুরে মেইল ট্রেন চলচ্চিত্রে অচিনপুরের রাজকুমারী নেই যে তার কেউ গানের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক যাত্রা শুরু করেন। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। তার জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে- জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প, ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস, ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে, ‘আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি, ‘আমার বুকের মধ্যেখানে, ‘আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন শুনেছিলাম গান, ‘ভেঙেছে পিঞ্জর মেলেছে ডানা, ‘সবাই তো ভালোবাসা চায়, ‘পড়ে না চোখের পলক, ‘পদ্মপাতার পানি, ‘ওগো বিদেশিনী, ‘তুমি মোর জীবনের ভাবনা, ‘আমি চিরকাল প্রেমের কাঙ্গাল প্রভৃতি

অনেক দিন থেকে কিডনি এবং চোখের সমস্যায় ভুগছিলেন অভিনেত্রী মিনু মমতাজ। অবশেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন তিনি। ২২ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টায় রাজধানীর গ্রীন লাইফ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। বর্ষীয়ান এই অভিনেত্রী করোনায় আক্রান্ত ছিলেন হাসপাতাল থেকে আরও জানানো হয়, তার ভোটার আইডি কার্ডের নাম জয়নব হাবিব। দীর্ঘদিন ধরে কিডনি চোখের সমস্যা ছিল তার। সম্প্রতি তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। দেখা দেয় জ্বর ঠান্ডা। করোনা সন্দেহে তাকে আত্মীয়রা গত সেপ্টেম্বর গ্রীন লাইফ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। এখানে টেস্ট করার পর তার করোনা পজিটিভ পাওয়া যায়। এরপর তাকে করোনার বিশেষ বিভাগে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেয়া হয়েছিল। সেই চিকিৎসা বাবদ প্রায় লাখ ৪০ হাজার টাকা বিল বাকি ছিলো হাসপাতালে। বিল পরিশোধ করতে হবে শুনেই তার মরদেহ নিতে আসছিলেন না তার পরিবারের সদস্যরা। অবশেষে অভিনয় শিল্পী সংঘ মিনু মমতাজের এক ভাগ্নির সহায়তায় তার দাফনকার্য সম্পন্ন হয় প্রসঙ্গত, অভিনেত্রী মিনু মমতাজকে চিকিৎসার জন্য গত বছর লাখ টাকা অনুদান দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ক্যান্সারের সঙ্গে চার বছরের লড়াই শেষে চির বিদায় নিলেন অভিনেতা, নির্দেশক আলী যাকের। তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৭ নভেম্বর ভোর ৬টা ৪০ মিনিটে তার মৃত্যু হয় বলে তার বিজ্ঞাপনী সংস্থা এশিয়াটিক থ্রিসিক্সটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে আলী যাকেরের ছেলে ইরেশ যাকের ফেইসবুকে এক পোস্টে জানিয়েছেন, মৃত্যুর দুদিন  আগে করোনাভাইরাসের সংক্রমণও ধরা পড়েছিল তার বাবার গত শতকের সত্তর থেকে নব্বইয়ের দশকে মঞ্চ আর টেলিভিশনে দাপুটে অভিনয়ের জন্য দর্শক হৃদয়ে স্থায়ী আসন নিয়ে আছেন আলী যাকের। একুশে পদকপ্রাপ্ত এই নাট্যজনের মৃত্যুতে গভীর শোক দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ দেশের বিশিষ্টজনেরা